স্বনির্ভরতার বার্তা দিলীপ ঘোষের

বারুইপুরে ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার ও কর্মসংস্থানের বার্তা দিলীপ ঘোষের।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার উপর জোর দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার বারুইপুরের রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত ‘স্বাবলম্বী ভারত অভিযান’-এর উদ্যোগে ‘উদ্যামিতা সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মানুষকে স্বনির্ভর করে তুলতে হবে।

ফল, ফুল ও মাছ চাষিদের নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল স্বনির্ভরতা ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, চাষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাবলম্বী ভারত অভিযানের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই ধরনের উদ্যোগে স্থানীয় উৎপাদনকে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বাবলম্বী ভারত অভিযানের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্যই হল কর্মপ্রার্থী নয়, কর্মদাতা হিসেবে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা।

অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘ক্ষুদ্র শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বারুইপুরের পেয়ারা থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে যে সমস্ত স্থানীয় উৎপাদন ও ক্ষুদ্র শিল্প রয়েছে, সেগুলিকে আরও প্রসারিত করতে হবে।’’

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও সংগঠিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও। তাঁর মতে, শুধু উৎপাদন করলেই হবে না, সেই উৎপাদিত সামগ্রীকে প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে বৃহত্তর বাজারে পৌঁছে দিতে হবে। এর ফলে স্থানীয় চাষি ও ছোট ব্যবসায়ীরা আরও বেশি আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, জেলার বহু মানুষ কাজের সন্ধানে ভিন্‌রাজ্যে পাড়ি দেন। বিশেষ করে সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার মানুষকে যাতে জীবিকার জন্য অন্য রাজ্যে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে না হয়, সেই ব্যবস্থা স্থানীয়ভাবেই গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘‘সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার মানুষ, বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের রোজগারের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁরা যাতে নিজের বাড়িতে থেকেই আয় করতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। তাহলে কাজের জন্য তাঁদের ভিন্‌রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না।’’

স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য কৃষি, মৎস্য, ফল ও ফুল চাষের পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র উদ্যোগকে উৎসাহিত করার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই হতে পারে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমানোর অন্যতম উপায়।

বারুইপুরের পেয়ারা-সহ জেলার বিভিন্ন স্থানীয় পণ্যের প্রসারের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার নিজস্ব উৎপাদন ও পণ্যকে ব্র্যান্ডিং করে বাজারে তুলে ধরতে পারলে জেলার বহু মানুষের জন্য নতুন আয়ের পথ খুলে যেতে পারে।

এদিনের সম্মেলনে উদ্যোক্তা তৈরি, স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভরতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারতীয় বিচার বিভাগের প্রমুখ দীপক শর্মা, পূর্ব ক্ষেত্রের কো-অর্ডিনেটর শারদা প্রসাদ সাথপতি, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার জেনারেল ম্যানেজার সূর্যনারায়ণ পানিগ্রাহী ও রাজেশ কুমার-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ছিলেন স্বাবলম্বী ভারত অভিযানের দক্ষিণবঙ্গের কো-অর্ডিনেটর বটেশ্বর ঝা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কো-অর্ডিনেটর সুদীপ ঘোষ।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো কৃষি, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদনির্ভর জেলায় স্থানীয় শিল্প ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়টি এই সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্থানীয় মানুষের হাতে কাজ এবং আয় পৌঁছে দিয়ে জেলার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এমন উদ্যোগ বলে আয়োজকদের দাবি।