গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির আশ্রম সংলগ্ন বাঁধে নতুন ভাঙন, আতঙ্কে স্থানীয়রা

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : অমাবস্যার কটালের প্রভাবে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এবং প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি আশ্রম সংলগ্ন সমুদ্রবাঁধে ফের বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। রবিবার সকালে মেলা মাঠের ১ নম্বর থেকে ৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে ধস নামার ঘটনা সামনে আসে। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের মধ্যে। ভাঙনের ফলে সমুদ্রের আরও অগ্রাসনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এলাকার জনজীবন ও পরিকাঠামোর জন্য বড়সড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরেই কপিলমুনি আশ্রম সংলগ্ন উপকূলবর্তী এলাকায় ভাঙনের সমস্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে বর্ষাকাল এবং অমাবস্যা বা পূর্ণিমার কটালের সময় সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেলে বাঁধের উপর চাপ বাড়ে। ফলে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সমুদ্রবাঁধের বিভিন্ন অংশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে অস্থায়ী মেরামতির কাজ করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না বলেই দাবি স্থানীয়দের।

এলাকার ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছেন, গঙ্গাসাগর মূলত পর্যটন ও তীর্থযাত্রীদের উপর নির্ভরশীল একটি অর্থনীতি। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থী এখানে আসেন। কিন্তু সমুদ্রবাঁধে বারবার ভাঙন এবং উপকূলের অস্থির পরিস্থিতির কারণে পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় হোটেল, লজ, দোকানপাট এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার উপর। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধুমাত্র মাটি ফেলে বা অস্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামত করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। উপকূল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে কংক্রিটের স্থায়ী সমুদ্রবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে নিয়মিত নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করার দাবি উঠেছে। নতুন সরকারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে গঙ্গাসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা যায়।