৭৫ বছরের বৃদ্ধ দম্পতির ভাঙা ঘরে জ্বলল আলো!

অবশেষে প্রশাসনের দীর্ঘদিনের সেই বঞ্চনার অবসান ঘটল।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : স্বাধীনতার ৮০ বছর পর ঘুচল অন্ধকার! বিধায়কের উদ্যোগে নামখানার ৭৫ বছরের বৃদ্ধ দম্পতির ভাঙা ঘরে জ্বলল আলো স্বাধীনতার আট দশক পার! গোটা দেশ যখন আধুনিকতার চূড়ান্ত শিখরে, তখন নামখানার এক জরাজীর্ণ একচিলতে ঘরে হ্যারিকেনের এবং ল্যাম্পের ধোঁয়াটে আলো আর মাটির মেঝেতেই দিন কাটছিল এক বৃদ্ধ দম্পতির। অবশেষে প্রশাসনের দীর্ঘদিনের সেই বঞ্চনার অবসান ঘটল। সাগর বিধানসভার বিধায়কের উদ্যোগে ৭৫ বছরের বৃদ্ধ দম্পতির ঘরে পৌঁছালো বিদ্যুতের আলো।এই মানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল নামখানা গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণগঞ্জ এলাকা। নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী গৌর দাস এবং তাঁর স্ত্রী ৭০ বছর বয়সী কল্পনা দাস। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে পাওয়া একচিলতে জরাজীর্ণ ঘরেই তাঁদের বাস। বছর দুয়েক আগে মানসিক ভারসাম্যহীন একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে তাঁরা আক্ষরিক অর্থেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন।এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি পৌঁছালেও, অর্থাভাব এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায় তাঁদের ঘরে মিটার বসেনি। বিদ্যুৎ তো দূর, বাড়িতে একটি শৌচালয় বা শোওয়ার খাটও ছিল না। মাটির মেঝেতেই রাত কাটাতেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। এই চরম দুর্দশার কথা জানতে পারেন সাগর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। তিনি নিজে বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে ওই বাড়িতে নতুন মিটার বসানোর ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে ঘরে সুইচ বোর্ড, আলো, একটি নতুন খাট এবং শৌচালয় তৈরির ব্যবস্থাও করে দেন তিনি। বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল নিজেই ওই বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে উপস্থিত হয়ে সুইচ টিপে আলো জ্বালান। দীর্ঘ ৮০ বছর পর নিজের ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলতে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ওই দম্পতি। দীর্ঘ বঞ্চনার পর অবশেষে বিধায়ক এর উদ্যোগে নামখানার নারায়ণগঞ্জের বৃদ্ধ দম্পতির অন্ধকার ঘরে জ্বললো আলো।