মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে বিক্ষোভের নেপথ্যে নাকি রয়েছে ভিন রাজ্যের এক বিজেপি নেতা!

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : টার্গেট তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বাইরে বের হলেই বিক্ষোভ,ছোঁড়া হচ্ছে পচা ডিম, পচা সবজি। তবে কি নিজের লোকসভাকেন্দ্রতেই টেকা দায় হয়ে যাবে এই তৃণমূল সাংসদের। আবার শোনা যাচ্ছে মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে বিক্ষোভের নেপথ্যে নাকি রয়েছে ভিন রাজ্যের এক বিজেপি নেতা। তাঁকে ঘিরে যে একের পর এক বিক্ষোভ সংগঠিত হচ্ছে তাতে করে কি নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মহুয়া মৈত্র। নাকি ছেড়ে দেবার পাত্রী তিনি নন। একসময়ের ছায়াসঙ্গী বিধায়ক জেবের শেকের বিরুদ্ধেই কেন অভিযোগের আঙুল তুলছেন মহুয়া মৈত্র। তবে কি কাছের লোকেরাই সরে যাচ্ছেন মহুয়ার পাশ থেকে? কী পদক্ষেপ নেবেন মহুয়া মৈত্র?
চাপড়ায় কর্মী বৈঠক সেরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এর পরই কর্মী বৈঠক ছেড়ে বেরোনোর সময় তাঁকে বিক্ষোভের পড়তে হয়। হাতে কালো পতাকা ও গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয় মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে। এমনকি শুনতে হল চোর চোর স্লোগানও। এরপরেই বেধে যায় দক্ষযজ্ঞকাণ্ড। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একপ্রস্ত হাতাহাতি হয়ে যায় মহুয়া অনুগামীদের মধ্যে। এবার প্রশ্ন হচ্ছে এই বিক্ষোভ সংগঠিত হল কাদের মদতে। মঙ্গলবার চাপড়ার একটি বেসরকারি লজে কর্মিসভা ডেকেছিলেন মহুয়া মৈত্র। যেখানে উপস্থিত ছিলেন কালীঘাট-তৃণমূল শিবিরে থাকা জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলি এবং পলাশিপাড়ার বিধায়ক রুকবানুর রহমান। কর্মিসভা চলাকালীনই বাইরে একদল মানুষ কালো পতাকা নিয়ে জড়ো হন। শুরু হয় গো ব্যাক স্লোগান। কর্মিসভার শেষে মহুয়া মৈত্র বেরিয়ে এলে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সাংসদকে ঘিরে ধরে কার্যত শুরু হয় বিক্ষোভ। ফের শুরু হয় চোর স্লোগান। পাল্টা জয় বাংলা স্লোগান দেন মহুয়া মৈত্রর অনুগামীরা। এক বিক্ষোভকারীর দাবি সাংসদ হিসাবে মহু মৈত্র চাপড়ার উন্নয়নে কোনও কাজ করেননি। অশান্তি, তোলাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের অসামাজিক কাজ বেড়েছে চাপড়ায়। তারই প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ।
অন্যদিকে মহুয়া মৈত্রর দাবি, এই বিক্ষোভের পিছনে হাত রয়েছে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের চাপড়ায় বিধায়ক জেবের শেখের। একসময় কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে মহুয়া মৈত্রের ডান হাত হিসেবে পরিচিত ছিলেন জেবের শেখ। স্থানীয় সূত্রে দাবি, বিগত লোকসভা নির্বাচনে চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মহুয়া মৈত্রকে বড় ব্যবধানের লিড দেওয়ার নেপথ্যে এই জেবের শেখেরই ভূমিকা ছিল অন্যতম। কিন্তু এখন সে সম্পর্ক অতীত। এক দলের হলেও দুজন এখন দুই শিবিরে। জেবের শেখের দাবি, মহুয়া নৈত্র পাশ থেকে সরে আসায় নানা অভিযোগ করছেন মহুয়া মৈত্র। কিন্তু আসল দ্বন্দ্বটা যে কোথায় তা বোঝায় মুসকিল। এদিকে বিক্ষোভ যেই করুন না কেন সবথেকে বড় কথা হলে মহুয়াকে মৈত্রের প্রতিটি পদক্ষেপেই হচ্ছে অশান্তি। এই তো সেদিন ১৪ অগাস্ট রাতে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউজের গেটের সামনে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন যুব মোর্চার সদস্যরা। সেই ঘটনায় তেলঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদের মহানকালী থানায় ২০ অগস্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগপত্রে নাম রয়েছে রাজুর। তার ভিত্তিতেই ৩০ অগস্ট রাজু রক্ষিতের বাড়িতে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানা মারফত সমন যায়। রাজু রক্ষিতের দাবি, তাঁরা কেউ বিক্ষোভ দেখাননি। সার্কিট হাউজ়ের গেটের বাইরে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে শুধু ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। সাংসদের মুখোমুখিও হননি তাঁরা। অকারণে ভিন রাজ্যে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন মহুয়া মৈত্র।
এদিকে নিজের লোকসভা কেন্দ্র কৃষ্ণনগরে গিয়ে বারবার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে । কখনও ডিম ছোড়া হয়েছে, কখনও স্লোগান দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাহিনতায় ভুগছেন সাংসাদ। এই সংক্রান্ত একটি মামলায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ, মহুয়া যখনই তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন, তখন তাঁর সঙ্গে দু জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করতে হবে, যাতে তাঁকে কোনও ভাবে হয়রানি বা সমস্যার মুখে পড়তে না হয়। তবে এই পুলিশি নিরাপত্তা আগামী ৩০ দিনের জন্যই দেওয়া হবে। আগামী ১ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি। বিচারপতি উল্লেখ করেন, মহুয়া কোন কোন তারিখে নিজের লোকসভা কেন্দ্রে যাবেন, সেই তারিখগুলি আগে থেকে পুলিশকে জানাতে হবে। সেই অনুযায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। নিরাপত্তার ব্যবস্থা তো হল কিন্তু দেখার বিষয় মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে আদৌও বিক্ষোভ রোখা যায় কিনা।