সুন্দরবনে শহিদ বেদী

বাঘের হামলায় নিহত মৎস্যজীবীর স্মরণে সুন্দরবনে প্রথম শহিদ বেদী।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান হাজার হাজার মৎস্যজীবী। প্রতিটি দিনই তাঁদের কাছে জীবন-মৃত্যুর লড়াই। জঙ্গলে বাঘের হামলায় প্রাণ হারানোর ঘটনা নতুন নয়। অথচ অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ থেকেও বঞ্চিত হন।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই এবার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিল মৎস্যজীবীদের সংগঠন। বাঘের হামলায় নিহত মৎস্যজীবীদের ‘শহিদের’ মর্যাদা দিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কয়েকদিন আগেই সুন্দরবনের জঙ্গলে স্বামী গৌতম দাসের সঙ্গে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন মৎস্যজীবী বন্দনা দাস। মাছ ধরার কাজ চলাকালীন নৌকাতেই রান্না করছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকাই জঙ্গল থেকে একটি বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে টেনে নিয়ে যায়। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গৌতম দাস বাঘের মুখ থেকে স্ত্রীকে কোনক্রমে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত বন্দনা দাসকে বাঁচানো যায়নি।

এই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ভুবনেশ্বরীতে বন্দনা দাসের বাড়ির পাশেই নদীর ধারে গড়ে উঠেছে সুন্দরবনের প্রথম শহিদ বেদী। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, জীবিকার তাগিদে প্রাণ হারানো মৎস্যজীবীদের যথাযোগ্য সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই শহিদ বেদী শুধু বন্দনা দাসের স্মৃতিকেই বহন করবে না, ভবিষ্যতে বাঘের হামলায় প্রাণ হারানো সমস্ত মৎস্যজীবীদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও দাঁড়িয়ে থাকবে।