ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ কর্মশালা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ উদ্যোগে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা MSME-র উন্নয়ন এবং সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বারুইপুরে অনুষ্ঠিত হলো MSME ক্লাস্টার অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম। ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের সহযোগিতায় আয়োজিত এই বিশেষ কর্মশালায় শিল্পোদ্যোগী ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, ব্যবসায়িক সুবিধা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিয়ে সচেতন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ERL-এর সিনিয়র ডিরেক্টর অতীন্দ্র চ্যাটার্জি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা DIC-এর জেনারেল ম্যানেজার অভিজিৎ কর, MSME-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর আশিস জানা, ERL-এর ডেপুটি ডিরেক্টর সাজ্জাদ তারিখ, আধিকারিক ড. তাপস কুমার, কো-অর্ডিনেটর বিমান দত্ত-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
কর্মশালায় বক্তারা জানান, দেশের অর্থনীতিতে MSME ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক প্রকল্প ও সহায়তা চালু রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবসায়ীরা সরকারি সুবিধা ও প্রকল্প সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না জানায় সেই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন না। এই সমস্যা দূর করতেই সচেতনতা কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় MSME সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে আর্থিক সহায়তা, ঋণের সুযোগ, ক্রেডিট গ্যারান্টি, প্রযুক্তির উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেশন, বাজার সম্প্রসারণ এবং সরকারি ক্রয়ে MSME-র সুযোগ।
এছাড়াও ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি বিভিন্ন সাবসিডি, ব্যবসায়িক ছাড় ও প্রণোদনা কীভাবে পাওয়া যায়, কোথায় আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র কী—তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষভাবে BIS-এর মানদণ্ড ও গুণমান বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পণ্যের মান উন্নত করা গেলে শুধু স্থানীয় বাজার নয়, বৃহত্তর বাজারেও ব্যবসার সুযোগ বাড়বে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।
শুধু সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নয়, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়েও আলোচনা হয়। অর্থের সংস্থান, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাজারজাতকরণ, দক্ষ কর্মীর অভাব, পণ্যের গুণমান বজায় রাখা এবং সরকারি নিয়মকানুন সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব—এই ধরনের সমস্যাগুলি নিয়ে মতবিনিময় হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতে এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও করা প্রয়োজন। এর ফলে নতুন উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন এবং পুরনো শিল্পগুলিও আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারবে।
কর্মশালায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরাও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সরাসরি আধিকারিকদের কাছ থেকে জানার সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বারুইপুর ও আশপাশের এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারে এই ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা।