শুভেন্দুর সরকারকে নিশানা নওশাদের

আইএসএফের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা, একাধিক ইস্যুতে সরব নওশাদ।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে আইএসএফের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনায় সরব হয়েছেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক তথা দলের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর দাবি, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্থানীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর দলের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “ওখানে নেতৃত্বরা আছে। ওখান থেকে নিশ্চিতভাবে আমাকে জানাবে।” একইসঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় সাম্প্রতিক দলবদলের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, ৪ তারিখের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বহু কর্মী ও নেতা দল পরিবর্তন করে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ এই ধরনের হিংসার ঘটনায় যুক্ত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।

নওশাদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংগঠনের উপর হামলার ঘটনায় বিজেপির নাম সামনে এলেও, কিছু ক্ষেত্রে প্রাক্তন তৃণমূল কর্মী-নেতারাই সেই ঘটনাগুলির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আইএসএফ গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানান দলের চেয়ারম্যান।

এদিকে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের দল ছাড়ার পর তাঁর গাড়িতে হামলার অভিযোগ নিয়েও মুখ খোলেন নওশাদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক হিংসাকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, আরাবুল ইসলামের গাড়িতে হামলার ঘটনা সত্যি হলে পুলিশ-প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত। ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে দ্রুত গ্রেফতার করার দাবিও জানান তিনি।

তবে ঘটনাটির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নওশাদ। তাঁর বক্তব্য, “যখনই দল ছাড়ল, তখনই আক্রমণ কেন হলো?” তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সহানুভূতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে কেউ কেউ নিজেরাই নিজেদের গাড়িতে হামলা চালিয়ে সেই দায় আইএসএফের উপর চাপানোর চেষ্টা করতে পারেন। ভাঙড়ে পুরনো রাজনৈতিক আঁতাতের অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ভাঙড়ের মানুষ হিংসা ও রাজনৈতিক তোলাবাজি থেকে মুক্তি চান এবং এলাকায় শান্তির পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে চান।

দলবদল করে আইএসএফে যোগ দেওয়া নেতা-কর্মীদের নিয়েও দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নওশাদ। তাঁর দাবি, ৪ তারিখের পর তৃণমূলের বহু কর্মী ও নেতা আইএসএফে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁদের কেউ কেউ দলের নেতৃত্বেও উঠে এসেছেন। তবে দলকে কোনওভাবেই “তৃণমূলকরণ” করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। দলের পুরনো কমিটিতে থাকা নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন কর্মী ও নেতাদের দলে গ্রহণ করা হবে বলে জানান নওশাদ।

অন্যদিকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন আইএসএফ চেয়ারম্যান। তাঁর দাবি, রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষ এই প্রকল্পের নিয়ম ও আবেদনপদ্ধতি নিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার আগে প্রকল্প নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমানে বিভিন্ন নিয়ম দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বিশেষ করে দীর্ঘ আবেদনপত্র ও নথিপত্রের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নওশাদ। তাঁর দাবি, ১২ থেকে ১৩ পাতার ফর্ম পূরণসহ নানা প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। রাজ্য সরকারের তরফে বিপুল সংখ্যক মানুষ অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি করা হলেও, বাস্তবে কতজন টাকা পেয়েছেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

এই বিষয়ে বিধানসভাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ উপভোক্তা তালিকা প্রকাশের দাবি জানান নওশাদ। তাঁর বক্তব্য, কোন বিধানসভায় কতজন মানুষ প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, সেই তালিকা প্রকাশ করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। একইসঙ্গে প্রকল্পের বরাদ্দ ও উপভোক্তার সংখ্যার মধ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নওশাদ জানান, রাজ্য সরকার যে ঘোষণা করেছে, সেই অনুযায়ী অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা মহিলাদের দিতে হবে। সাধারণ মানুষের দাবিকে সামনে রেখে আইএসএফের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আইএসএফের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, রাজনৈতিক হিংসা, আরাবুল ইসলামের গাড়িতে হামলার অভিযোগ, দলবদল এবং অন্নপূর্ণা যোজনা—একাধিক ইস্যুতে নওশাদ সিদ্দিকীর বক্তব্যে ফের ভাঙড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর তোলা অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের বক্তব্য সামনে এলে গোটা পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।