বিষ্ণুপুরে ১২ ভাগচাষীর অভিযোগে সরব গ্রাম।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার পীরখালী গ্রামের ১২ জন ভাগচাষী পাট্টার জমি জোর করে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জুলপিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জীব মণ্ডল, তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন এবং এলাকার দুই প্রোমোটার দীনেশ নস্কর ও মোহিত নস্করের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ভয়ে মুখ খুলতে না পারলেও সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের টোল-ফ্রি নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, ১৯৯৫ সালে সরকারিভাবে পাট্টা পাওয়া জমিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছিলেন। ২০০২ সালে জমি সংক্রান্ত শুনানির পরও তাঁরা জমিতে চাষ চালিয়ে যান। পরে হঠাৎ জানতে পারেন, তাঁদের অজান্তেই ওই জমি বিক্রি হয়ে গেছে। এর প্রতিবাদ করায় বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয় এবং প্রধান ও তাঁর অনুগামীদের ভয়ে একসময় জমি ছাড়তে বাধ্য হন বলে অভিযোগ। ২০১২ সালের পর থেকে হুমকি আরও বেড়ে যায় বলেও তাঁদের দাবি।
ভাগচাষীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন আতঙ্কের কারণে তাঁরা থানায় অভিযোগ জানাতেও সাহস পাননি। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের টোল-ফ্রি নম্বরে অভিযোগ জানানোর পর তাঁদের মধ্যে নতুন করে ন্যায়বিচারের আশা জেগেছে। প্রশাসন বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তাঁদের জমি ফিরিয়ে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা ১২টি কৃষক পরিবারের।
ভাগচাষী সঞ্জিত জমাদারের দাবি, তিনি বহু বছর ধরে জমিতে চাষ করলেও একসময় তাঁকে জানানো হয় জমিটি বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিবাদ করায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আরেক ভাগচাষী পালান মণ্ডলের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ভয়ের কারণে তিনি থানায় যেতে পারেননি। প্রবীর জমাদারও দাবি করেছেন, আতঙ্কের পরিবেশে এতদিন মুখ খুলতে পারেননি। এখন মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ জানানোর পর জমি ফিরে পাওয়ার আশায় রয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, বজবজ এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ জানানোর পর মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্যের ঘটনা সামনে আসার পর এবার বিষ্ণুপুরের এই ১২টি কৃষক পরিবারও একইভাবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে জুলপিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জীব মণ্ডল এবং অভিযুক্ত প্রোমোটার দীনেশ নস্কর ও মোহিত নস্করের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।