তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের লেলিহান শিখা কেড়ে নিল রাকেশের প্রাণ।

সুপ্রিয় বসাক, নিজস্ব সংবাদদাতা : বৈদ্যনাথ ধামে পুজো দিয়ে এসে আর মেয়ের অন্নপ্রাশনের আয়োজন হলো না রাকেশের। তারাপীঠ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধূপগুড়ির এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া শহর জুড়ে। মৃত যুবকের নাম রাকেশ শর্মা। তিনি সবার কাছে রাখি নামেই পরিচিত। পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের গয়েরকাটা স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার তাঁর বাড়ি।
জানা যাচ্ছে, শুক্রবার আলিপুরদুয়ারের কয়েকজন যুবকের সাথে রাখি ধূপগুড়ি থেকে দেওঘরে শিবের মাথায় জল ঢালতে গিয়েছিলেন। সেখানে পুজো দিয়ে ফেরার পথে রবিবার তারাপীঠে পুজো দেওয়ার জন্য হোটেলে রাত্রিবাস করেন। আচমকাই সোমবার ভোরে ওই হোটেলে বিধ্বংসী আগুন লেগে যায়। ঘটনায় অনেকেই হোটেলের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখায় ঝলসে যান। হোটেল থেকে রাখিকে দমকল কর্মী ও পুলিশ উদ্ধারের পর রামপুরহাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা চলাকালীন সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর ধূপগুড়িতে আসতেই পরিবার পরিজন সহ বন্ধু বান্ধব কান্নায় ভেঙে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সদা হাস্যময় ব্যক্তিত্ব ছিল রাখির। সকলের সাথেই তাঁর সুসর্ম্পক ছিল। এর আগেও এক দুর্ঘটনায় শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন। মিলপাড়ার একটি হার্ডওয়ারের দোকানে কাজ করতেন তিনি।
প্রতিবছর রাখি দেওঘর যাত্রা করতেন। এবছরও সেই উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলেন। কিন্তু আচমকা এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেল। সকলেই শোকাহত। তাঁর পরিবারে মা,বাবা,ভাই,স্ত্রী সহ একটি ছয় মাসের কন্যা সন্তানও রয়েছে। দেওঘর থেকে ফিরে মেয়ের মুখে ভাতের অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই সমস্ত কিছু শেষ হয়ে গেল। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন রাকেশ ওরফে রাখি।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে মঙ্গলবার তাঁর দেহের ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তরতাজা এই যুবকের অকালমৃত্যুতে শোকাহত গোটা শহর।