তৃণমূল বিধায়কের বেআইনি নির্মাণে তালা!

ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের মায়ের নামে নির্মিত একটি সেবাশ্রম/বৃদ্ধাশ্রম সংলগ্ন পার্ক ও কয়েকটি ঘরে তালা লাগানো হল।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং ১ ব্লকের মাতলা নদীর চরে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা নির্মাণকে ঘিরে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের মায়ের নামে নির্মিত একটি সেবাশ্রম/বৃদ্ধাশ্রম সংলগ্ন পার্ক ও অন্যান্য কয়েকটি ঘরে প্রশাসনিক দল অভিযান চালিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়।

​অভিযানের সময়: বুধবার দুপুরে ক্যানিং মহকুমা শাসকের (SDO) সরাসরি নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
​উপস্থিত আধিকারিক ও বাহিনী: ক্যানিং ১ ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) অফিসের পদস্থ কর্মী ও আধিকারিকদের পাশাপাশি ক্যানিং থানার পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে মাতলা নদীর চরে অবস্থিত ওই আশ্রমে পৌঁছায়।
​যেসব অংশে তালা দেওয়া হয়েছে: মাতলা নদীর চরে বিধায়কের তহবিলের বা সরকারি অর্থ ব্যয়ে আশ্রম সংলগ্ন যেসব পার্ক ও অন্যান্য অননুমোদিত কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছিল, তার মধ্যে ৫ থেকে ৬টি ঘরে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তালা ঝুলিয়ে দেন।
বৃদ্ধাশ্রমের পরিস্থিতি: যে ঘরগুলিতে বয়স্ক বাসিন্দারা বা সেবাশ্রমের মূল মূল সুবিধাভোগীরা রয়েছেন, অর্থাৎ মূল বৃদ্ধাশ্রমের অংশটিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটানো হয়নি এবং সেটি ছাড় দেওয়া হয়েছে।
​আইনি নোটিশ ও নথিপত্র তলব
​গত ২১ তারিখে ক্যানিং মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিধায়ক পরেশ রাম দাসকে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
নোটিশের বক্তব্য: নদীর চর বা খাস জমিতে সরকারি অর্থ ব্যয় করে কীভাবে আশ্রমের পাশাপাশি পার্ক ও অন্যান্য অতিরিক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হলো, সে বিষয়ে যাবতীয় বৈধ নথিপত্র, অনুমোদন ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
​সময়সীমা: নোটিশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে ক্যানিং মহকুমা শাসকের অফিসে হাজির হয়ে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
মাতলা নদীর মতো স্পর্শকাতর নদী চরে কোনো প্রকার নিয়মবহির্ভূত বা অননুমোদিত নির্মাণ রুখতে এবং সরকারি জমির ব্যবহার খতিয়ে দেখতে প্রশাসন এই কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে। ১৫ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়া এবং নথিপত্র জমা বা পর্যালোচনার উপর ভিত্তি করে মহকুমা প্রশাসন পরবর্তী চূড়ান্ত পদক্ষেপ ঘোষণা করবে।