ঘর পাইনি, টাকা কোথায়? ক্ষোভে ফুঁসছে বাদুড়িয়া!

গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ টাকাই দীর্ঘদিন ধরে কাটমানি হিসেবে তোলা হয়েছে। আর সেই টাকা লুকিয়ে রাখার অভিযোগ ঘিরেই এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।

শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা : আবাস যোজনা। গরিব মানুষের মাথার উপর একটা পাকা ছাদ তৈরির স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নকেই ঘিরে এবার উঠে এল বিস্ফোরক অভিযোগ। একদিকে কাটমানির পাহাড়, অন্যদিকে ভাঙাচোরা আবাসের ঘর। বাদুড়িয়ায় সামনে এল এমন এক ছবি, যা দেখে কার্যত হতবাক এলাকাবাসী। অভিযোগ, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ টাকাই দীর্ঘদিন ধরে কাটমানি হিসেবে তোলা হয়েছে। আর সেই টাকা লুকিয়ে রাখার অভিযোগ ঘিরেই এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। দেখুন বাদুড়িয়ার সেই চাঞ্চল্যকর ছবি।

পালাবদলের পর ফের শিরোনামে আবাস যোজনার দুর্নীতির অভিযোগ। তবে এবার সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর ছবি। অভিযোগ, গরিব মানুষের কাছ থেকে আবাস পাইয়ে দেওয়ার নাম করে যে কাটমানি তোলা হত, সেই বিপুল পরিমাণ টাকাই বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগের কেন্দ্রে বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। অভিযোগ উঠছে, শুধু তিনিই নন, পুরসভার একাধিক জনপ্রতিনিধিও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর সেই অভিযোগ সামনে আসতেই এখন উত্তপ্ত গোটা বাদুড়িয়া।

একদিকে যখন এই খবর উঠে আসছে, অন্যদিকে এই এলাকারই এক বাড়িতে যাওয়া যাক। আবাস যোজনার টাকাতেই তাঁর বাড়ি তৈরি। আবাস যোজনার ঘর পেলেও সেই ঘরে বসবাস করার অযোগ্য কংক্রিটের ছাদ থাকলেও বছর ঘুরতেই ছাদ দিয়ে জল ঘরের ভিতরে পড়ায় কালো পলিথিন দিয়ে মুড়তে হয়েছে ঘর

বাদুড়িয়ায় আবাস যোজনার কাটমানি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। গ্রেফতার হওয়া বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এবার সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারাও। বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভে সামিল হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেকেই টাকা দিয়েও ঘর পাননি। সেই অর্থই পরে নগদ আকারে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

গরিব মানুষের মাথার উপর ছাদ তৈরির জন্য যে প্রকল্প, সেই আবাস যোজনাকেই ঘিরে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ বাদুড়িয়ায়। একদিকে ভাঙাচোরা, জল চুঁইয়ে পড়া আবাসের ঘর। অন্যদিকে কাটমানির টাকা লুকিয়ে রাখার অভিযোগ। দুই ছবিই এখন বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। আর সেই কারণেই এখন গোটা এলাকার নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। কারণ, এই টাকার উৎস কোথায়, আর এই দুর্নীতির জালে আর কারা জড়িত। সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।