ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে দুর্গা প্রতিমা!

সুব্রত পাল,নিজস্ব প্রতিনিধি : শারোদৎসবকে কেন্দ্র করে আনন্দে মেতে উঠেছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন। এই উৎসবমুখর সময়ে শিল্পীদের হাতের কাজে তাঁদের সহযোগী কর্মীদের সাহায্যে ফুটে ওঠে বিভিন্ন পুজো মণ্ডল এবং প্রতিমা, সেজে ওঠে আলোকসজ্জা। মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল নামে প্রত্যেক বছর। বছর পেরোলে আবারও পরের বছরে মায়ের আগমণের জন্য উৎসুক হয়ে থাকেন মানুষজন। শিল্পীদের শিল্পকর্ম মা-দুর্গার পুজোর মাধ্যমে এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে। এমনই এক শিল্পী বেলঘড়িয়ার নন্দননগর আমতলার বাসিন্দা অমল পাল।

বয়স ৬০ বছর। প্রতিবছরই ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে নতুন নতুন কিছু সৃষ্টিকর্ম তৈরি করেন। এবারও তার অন্যথা হয়নি। নিজের হাতে সাজিয়ে তুললেন প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা। শিল্পীর শিল্পত্ব এ বছরও অমল পালের ভাবনায় বিভিন্ন ভাবনা তুলে ধরেছেন। বসন্ত উৎসব চলে গেলেও, মানুষের ফেলে দেওয়া বেঁচে যাওয়া আবীর দিয়ে মাতৃ প্রতিমা ফুটিয়ে তুললেন শিল্পী। এবারের ভাবনা পাপ ও পূর্ণ। মা বাবা তাদের কষ্টের মধ্যে দিয়ে সন্তানকে বড় করে তোলেন, সেই সন্তান যখন বড় হয় তখন সেই মা-বাবাকেই ভুলে যায়। রেখে দেওয়া হয় বৃদ্ধাশ্রম অথবা অন্য কোন জায়গায়। সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে প্রায়ই এই খবর উঠে আসে। মা-বাবা পরিবারকে এবং সন্তানদেরকে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দেয় আর তার পাশাপাশি শিল্পী অমর পাল তাঁর ভাবনায় কিন্তু সামাজিক কথা বলতে ভুলে যাননি।

মানুষ কানে মোবাইল দিয়ে যেভাবে রেললাইন পার করেন যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটে বাইক নিয়ে বেরিয়ে হেলমেট ছাড়া অথবা কানে মোবাইল দিয়ে যে দুর্ঘটনা ঘটে তারও বার্তা দিতে ভোলেননি। সবমিলিয়ে শিল্পী অমর পাল সমাজের  কাছে এই শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তার এই শিল্প এবং কারুকার্য ফুটে উঠেছে ফেলে দেওয়া আবির, ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের জিনিসপত্র এবং বাইক সারানোর বিভিন্ন ফেলে দেওয়া সামগ্রী, তেলের কৌটো, সহ বিভিন্ন জিনিসে ফুটিয়ে তুলেছেন। মনের ভাবনা এবং চিন্তার মধ্যে দিয়ে নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন তার শিল্প। শিল্পী অমর পাল ছোট থেকেই ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে কিছু না কিছু তৈরি করে স্কুলে নিয়ে যেতেন। তাঁর বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে হয় তাঁকেই। ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন নিজের সংসারের যাবতীয় খরচ তিনি চালাতেন। সেজন্য পেশা হিসেবে বাইক সারানোটাকেই বেছে নেন শিল্পী অমর পাল।

 প্রথমে মোটর মেকানিক্সের কাজ শেখেন এবং তারপরে বাড়িতেই সেই কাজের ব্যবস্থা করেন। বাড়িতেই তিনি বিভিন্ন গাড়ি সারান। ২০১২ সাল থেকেই শিল্পী অমর পালের মাথায় আসে ফেলে দেওয়া জিনিস কীভাবে কাজে লাগানো যায়। ধীরে ধীরে ভাবনাচিন্তা ফলপ্রসূ হয়। প্রথমে ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে মণ্ডপ, তারপর প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। প্রতিবছরই মানুষের সামনে ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে বিভিন্ন মডেল তৈরি করে থাকেন তিনি। এবারও তার অন্যথা হল না।