বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে কে এগিয়ে ?

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : কে হবেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী? এই নিয়েই এখন জল্পনা। শুভেন্দু অধিকারী থেকে তালিকায় শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ। না না আরেক জনও আছেন মিঠুন চক্রবর্তী। কে হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। যদিও অমিত শাহ কিন্তু বলে দিয়েছেন কোনও বাঙালি ও বাংলা মাধ্যমে থেকে পড়া কেউ। ২৫ বৈশাখই মিলবে তার উত্তর।
তাহলে কে সেই ব্যক্তি। যদিও ভোটে লড়ার আগে থেকে এই প্রশ্নটা ঘোরাফেরা করছিল। কে হতে পারে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ। তখন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, বিধানসভা নির্বাচনে কোনো একক মুখ নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়ন এবং তাঁর বলিষ্ঠ ভাবমূর্তিকে সামনে রেখেই ভোট ময়দানে গেরুয়া শিবির। শমীকবাবুর এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোকাবিলায় বিজেপি এবারও ‘ব্যক্তি’র চেয়ে ‘নীতি’ ও ‘মোদী ম্যাজিক’-কেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, তবে কি শুভেন্দুই বিজেপির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী? উল্লেখ্য, ২০২১-এর হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এবার ফের ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে ল়ড়াই দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি যেভাবে হিন্দুত্বের ধ্বজা ধরে বাংলার তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই দিয়েছেন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী দৌড়ে এগিয়ে রাখাটা স্বাভাবিক। বিরোধী দলনেতা হিসাবেও তিনি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিধানসভায় নানা ইস্যুতে তৃণমূলের বিরোধীতা করা থেকে শুরু করে রাস্তায় নেমে আন্দোলনে বাকিদের থেকে অনেকটা এগিয়ে তিনি। কিন্তু অনেকেই বলেন শুভেন্দু অধিকারীর আরএসএস ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকা মুখ্যমন্ত্রী মুখ হওয়াতে একটু বাধা রয়েছে। বিজেপি-র অধিকাংশ মুখ্যমন্ত্রী বা শীর্ষনেতার আরএসএস বা সঙ্ঘ পরিবারের সাথে সরাসরি যোগসূত্র থাকলেও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বর্তমান অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কংগ্রস থেকে বিজেপি-তে যোগদান করেছেন এবং তার রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ সঙ্ঘ পরিবারের বাইরে কেটেছে । এন. বীরেন সিং মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস থেকে বিজেপি-তে এসেছেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী তালিকায় নাম রয়েছে দিলীপ ঘোষেরও। তিনি দক্ষ সংগঠক। তাঁর হাত ধরেই বিজেপি ২১ বিধানসভা ভোটে ৭৭ টি আসনে জেতে। তাঁর আরএসএস ব্যাকগ্রাউন্ডও রয়েছে। রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্যের নামও। এমনকি নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তীও।

বিজেপি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার অমিত শাহ বা রাজনাথ সিংহ রাজ্যে থাকবেন। নিউটাউনের হোটেলে বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তাঁরা। সেখানে পরিষদীয় দলের বৈঠক হবে। আর সেই বৈঠকেই ঠিক হতে পারে পরিষদীয় দলের নেতা, আগামী সরকারের মাথার নাম।কিন্তু রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ী সরকারের মেয়াদ ৯ মে পর্যন্ত। ফলে মুখ্য়মন্ত্রী বাছাই পর্ব দীর্ঘায়িত করা যাবে না। মমতা ইস্তফা দিলেই বিজেপি-র পরিষদীয় দলের নেতাকে ডেকে পাঠাবেন রাজ্যপাল এন রবি। তিনি সরকার গঠনের নির্দেশ দেবেন। বিজেপি সূত্রে খবর, ৯ মে-ই বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন পশ্চিমবঙ্গে। ওই দিন ২৫ বৈশাখও, অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিবস। প্রচারপর্বে বার বার বিজেপি-র গায়ে ‘বাংলাবিরোধী তকমা সেঁটে দেওয়া হয়। সেই তকমা কাটিয়ে বেরোতেই ২৫ বৈশাখ নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
১৫ বছর পর ফের বিরোধী আসনে তৃণমূল। বিরোধী দলনেত্রী হয়ে ফের পথে নামতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটবাক্সে এত বড় পরিবর্তন ঘটবে, তা আঁচ করতে পারেননি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। এমনকি ২০০-র বেশি আসনে জয় নিশ্চিত বলে শনিবারও দাবি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে কি দলের ভোটব্যাঙ্কে ধস আঁচ করতে পারেননি তাঁরা? এখন ফের তৃণমূলের ভোটব্য়াঙ্কে এই ধস নামার কারণ হাতড়াতে হবে ঘাসফুল শিবিরকে। অন্যদিকে অঙ্গ,বঙ্গ, কলিঙ্গ জয়ের পর শ্যামাপ্রসাদের জন্মভূমিতে শাসন ভার হাতে নিয়ে বাঙালি অস্মীতা ও প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করতে পারে বিজেপি তার দিকে তাকিয়ে বাংলা।