ঢালাই ভাঙতে আনা ভাইব্রেটর অভিষেকের আমতলা সাংসদ অফিসে

পার্টি অফিস থেকে বের করা হয়েছে এয়ার পিউরিফায়ার, বস্তা বস্তা ধুতি, শাড়ি, জামাকাপড়, বড় বড় টেবিল, সোফা, গদি, ছবির মতো জিনিসপত্র।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবৈধ সাংসদ অফিসে চলেছে বুলডোজার । আর বুলডোজার অ্যাকশনের পর এবার ঢালাই ভাঙতে আনা হয়েছে ভাইব্রেটর অভিষেকের আমতলা সাংসদ অফিসে। সেই সঙ্গে কাজে লাগানো হচ্ছে এয়ার কম্প্রেশর। প্রচুর পরিমাণে মিস্ত্রী কাজে লাগিয়ে চলছে অভিষেকের অফিস ভাঙার কাজ।ইতিমধ্যেই অভিষেকের অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে অনেক আসবাব পত্র ও কম্পিউটার। আজ, রবিবার আরও বেশ কিছু জিনিস পাওয়া গেল অভিষেকের অফিসে।রাতভর পার্টি অফিস থেকে বের করা হয়েছে জিনিসপত্র। রবিবার সকাল থেকেও দেখা যায় প্রশাসনিক তৎপরতা। পার্টি অফিস থেকে বের করা হয়েছে এয়ার পিউরিফায়ার, বস্তা বস্তা ধুতি, শাড়ি, জামাকাপড়, বড় বড় টেবিল, সোফা, গদি, ছবির মতো জিনিসপত্র। আর এই জিনিসপত্র ভরতে আনা হয়েছিল একাধিক ট্রাঙ্ক। প্রায় ১৫ থেকে ২০টি এয়ার কন্ডিশনার খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কার্যালয় থেকে। আমতলার কার্যালয়ে কাটা হয়েছে বিদ্যুতের কানেকশন।এমনকি কয়েক লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সার্ভার রুম ভেঙে নিয়ে আসা হয়েছে।রবিবার অভিষেকের আমতলার অফিস ভাঙার কাজের জন্য এয়ার কম্প্রেসার নিয়ে আসা হয়েছে। পাশাপাশি ভাইব্রেটর দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে ভাঙার কাজ করা হবে। প্রচুর মিস্ত্রী কাজে লাগিয়ে কার্যালয়ের নীচের অংশ ভাঙা হচ্ছে। জানালার ফ্রেমও ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাক নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্র লোড করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। বাঁশ নিয়ে আসা হয়েছে। মাচা বেঁধে বাইরের দিক থেকে অফিস ভেঙে দেওয়া হবে।

গতকাল থেকে দমকল রাখা হয়েছে। হাতুড়ি দিয়ে দোতলা ভাঙার কাজ চলছে। অভিষেকের অফিসের একাংশে হাতুড়ির ঘা। অভিষেকের অফিসের সামনে উপস্থিত এক কর্মী বলেন, ‘ভাইব্রেটর দিয়ে ঢালাই ভাঙার কাজ হবে। এটা যে কর্মীরা ট্রাকে জিনিসপত্র লোড করছিলেন, তাঁদের একজন বলেন, ‘এখনও খাট, কাঠের শোকেস, সোফা, কম্পিউটার , কাঠের বিভিন্ন রকম আলমারি আছে।’১৮ জুলাই অভিষেকের আমতলার অফিসে বুলডোজার চলতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে দেখা যায় স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের। তাঁদের অনেকেই অভিষেকের অফিসের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’, ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান দিতে থাকেন। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে অভিষেকের অফিসেও ঢুকে পড়েন। তারপর হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুরও চালান তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসে পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী।