দেশে কবে ফিরবেন সিদ্ধান্ত নেবেন হাসিনা!

হাসিনা যতদিন ইচ্ছে ভারতে থাকবেনঃ জয়শঙ্কর

জুলেখা নাসরিন, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ফাঁসির সাজা মাথায় নিয়ে আর কত দিন ভারতে থাকবেন শেখ হাসিনা…কবে ফিরবেন তিনি বাংলাদেশে এই নিয়ে একাধিক তর্ক-বিতর্ক চলছে বাংলাদেশে..বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তোহিদ হোসেনকে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রায় প্রত্যেকদিন…প্রশ্নের উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলে যাচ্ছেন,, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ব্যাপারে ভারত থেকে এখনও কোনও সবুজ সংকেত পাইনি বাংলাদেশ..আপনারা প্রত্যেকে জানেন ইতিমধ্যে হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে চাপ দিচ্ছে ঢাকা। দু’বার নয়াদিল্লিকে চিঠিও দিয়েছে বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রক। সেই চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে ভারতও প্রতিবেশী দেশকে মর্যদাপূর্ণ উত্তর দিয়েছে…শেখ হাসিনা কি যত দিন ইচ্ছে ভারতে থাকবেন? জবাবে তিনি সরাসরি হ্যাঁ—না না বলে পরিস্থিতি নির্ভর ব্যাখ্যা দেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উত্তর, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তিনি যে পরিস্থিতির কারণে ভারতে এসেছেন, সেটি এ বিষয়ে প্রভাব ফেলছে। শনিবার এইচ.টি লিডারশিপ সামিটে একটি প্রশ্নের জবাবে বলেন এস জয়শঙ্কর. ভারতের বিদেশমন্ত্রী আরও জানান, একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে ভারতে এসেছেন শেখ হাসিনা। আমার মনে হয় সেই সময়ের পরিস্থিতিই স্পষ্ট করেছে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল। কিন্তু আবারও বলছি, এটা এমন একটি বিষয় যেখানে তাঁকেই বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

হ্যাঁ, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন, নিশ্চিত ভাবেই দেশে ফিরবেন তিনি,, তবে কবে তিনি দেশে ফিরবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে স্বয়ং শেখ হাসিনাকেই,,তেমনটা আর প্লাস নিউজকে জানিয়েছেন,, আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি ওবাইদুল কাদের..তবে একই সঙ্গে তিনি এটা স্পষ্ট করেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা অনেকাটা নির্ভর করছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর..সম-সাময়িক বিষয়ের উপর… ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়। এরপর তিনি পদত্যাগ করে সেনার সাহায্যে ভারতে এসে আশ্রয় নেন। ওই সময়ের আন্দোলনে অর্থাত জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে বাংলাদেশে শতাধিক মানুষ নিহত ও হাজারের বেশি মানুষ আহত হন বলে হয়। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ৭৮ বছর বয়সী হাসিনাকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল দমনপীড়ন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে.. তাঁর যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা দিয়েই নিহতদের পরিবার এবং আহতদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জমি দুর্নীতি মামলায় হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

এইচ.টি লিডারশিপ সামিটের আলোচনায় উঠে আসে ভারত-বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্কের বিষয়টিও..সেখানে এস জয়শঙ্কর বলেন, আমরা শুনেছি যে বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তাঁদের আগের নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ ছিল।  নির্বাচনটাই যদি মূল ইস্যু হয়, তবে সবার আগে সেখানে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন হওয়া দরকার..আমরা চাই বাংলাদেশ ভালো থাকুক। তবে ইউনুস সরকারের সঙ্গে কিন্তু কোনও সম্পর্ক ভারত চাইছে না সেটা স্পষ্ট করেছেন জয়শঙ্কর, কারন ইউনুস সরকার অগনতান্ত্রিক, এই সরকারের কোনও পরিপক্কতা নেই,এমনকি এই সরকার জানে না কিভাবে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলতে হয়,,অর্থাত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তখনই ভালো ভবে যখন, সেখানে একটি গনতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় সেদেশে ক্ষমতায় আসবে,, যে সরকারের একটি ব্যালেন্ড এবং ম্যাচিউরড ভিউস থাকবে.. এই সরকার তারমানে গনতান্ত্রিক নয়, পরিপক্ক নয় সেটা স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর,,ফলে এই সরকারের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক তৈরিতে ভারত বিশেষভাবে আগ্রহী নয়. তবে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত সবসময় চায় জনগণের ইচ্ছা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হোক। 

আমরা বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করি। একটু মনে করিয়ে দিতে চাই ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা ভারতে আসার পরে ৬ অগাস্ট এস জয়শঙ্করই পার্লামেন্টে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিলেন..এবং পার্লামেন্টের ওই বৈঠকে এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট করেছিলেন , কোন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ভারতে এসেছেন সেই প্রসঙ্গটি ব্যাখা করেছেন এবং সেই মিটিং-এ যারা সেদিন উপস্থিত ছিলেন তারা প্রত্যেকেই জয়শঙ্করের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে ভারতে এসেছেন সেই পরিস্থিতিতে তিনি যতদিন ইচ্ছা ভারতে থাকবেন এবং ভারত সরকার শেখ হাসিনার জন্য যথাযত ব্যবস্থা নেবে…৬ অগাস্ট ২০২৪ সালে রাজ্যসভাতেও একটা বিশেষ বক্তব্যের মাধ্যমে রাজ্যসভার সমস্ত সাংসদদের জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা কোন পরিস্থিতির কারনে ভারতে এসেছিলেন, ৪ অসাস্ট থেকে কি ভাবে অনিরাপদ হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান যেটা হাসিনার পতনকে আরও তরান্বিত করে. এবং ৫ অগাস্ট যখন কার্ফু অনান্য করে বিক্ষভরত জনতা তার বাসভবনে চলে আসে তখন শেখ হাসিনা নিরাপত্তাহীনতার কারনে খুব কম সময়ের মধ্যে ভারতে যোগাযোগ করে ভারত সরকারকে তার বিমান অনুমোদনের অনুরোধ করেন..হাসিনার সেই অনুরোধে ভারত তাকে আশ্রয় দেয়. তবে ৬ অগাস্ট রাজ্যসভায় এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন খুব অল্প সময়ের জন্য ভারতে এসেছেন শেখ হাসিনা, সেদিন তার বক্তব্যকে কউ বিরোধীতা করেনি উল্টে সমর্থন করেছিল,,আর শনিবার এস জয়শঙ্কর বললেন ভারতে যতদিন ইচ্ছা থাকতে পারেন শেখ হাসিনা, ফেরার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত তাহলে এটা পরিষ্কার বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপরও নজর রাখছেন হাসিনা..আর এত বড় কথাটা এস জয়শঙ্কর নিশ্চয়ই একার সিদ্ধান্তে বলছেন না,,এক্ষেত্রেও একটা উচ্চ পর্যায়ের মিটিং-এর পরে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে..আর ভারত অবশ্যই চায় বাংলাদেশের একটা গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক মজবুত করতে…