পথ কুকুর মামলা: রাজ্যের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিমকোর্ট

দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে!’ পথকুকুরের নির্বীজকরণে রিপোর্ট না দেওয়ায় রাজ্যগুলিকে তুলোধনা শীর্ষ আদালতের

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: পথ কুকুর নিয়ন্ত্রণ এবং পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি (২০২৩) প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য সোমবার সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। নির্দিষ্ট সময় দেওয়ার পরেও পশুপালন দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট জমা না পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত।

বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বে বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও এনভি আঞ্জারিয়াকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পথকুকুর প্রসঙ্গে মানুষের জীবন সুরক্ষিত করার কাজে নিষ্ক্রিয়তার জন্য শীর্ষ আমলাদের ব্যক্তিগতভাবে দায় নিতে হবে।

বেঞ্চ সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মুখ্যসচিবদের আগামী ৩ নভেম্বরের আগে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে কেন এত সময় দেওয়া সত্ত্বেও এতদিনেও হলফনামা জমা দেওয়া যায়নি, তার ব্যাখ্যাও চেয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

আদালত উল্লেখ করেছে, তেলঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লি পুরসভা (Delhi Purashava) শুধু রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এর মধ্যে তেলঙ্গানা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবদের ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে দিল্লি পুরসভার রিপোর্ট যথেষ্ট মনে না হওয়ায়, দিল্লির মুখ্যসচিবকেও আগামী ৩ নভেম্বর ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দিতে হবে। আদালতের সাফ কথা, আগামী ৩ নভেম্বর সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের হাজিরা দিতে হবে এবং নিষ্ক্রিয়তার কারণ জানাতে হবে।

তীব্র অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আদালত জানিয়েছে, আগস্ট মাসে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। পথকুকুরদের নির্বীজকরণ ও জলাতঙ্ক নিরোধী কর্মসূচি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।

বিচারপতি নাথ বলেন, “তিন মাস কেটে গেলেও কিছুই রেকর্ডে আসেনি। অথচ দেশে কুকুরে কামড়ানো এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে আমাদের দেশকে খারাপ চোখে দেখা হচ্ছে।” রাজ্যের আধিকারিকদের উদ্দেশ্য করে বেঞ্চ মন্তব্য করে: “আমাদের নির্দেশ সব সংবাদপত্র ও অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে ফলাও করে ছাপা হয়েছে। রাজ্যের আধিকারিকরা কি খবরের কাগজ পড়েন না, নাকি সোশ্যাল মিডিয়া ফলো করেন না?” আদালতের নির্দেশ না মানার ফল ভোগ করতে হতে পারে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেঞ্চ।

এদিনের শুনানিতে এক আইনজীবী যখন পশুদের উপর নৃশংসতার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন, তখন বেঞ্চ পাল্টা জবাব দেয়, “মানুষের উপর নৃশংসতা নিয়ে আপনার মত কী?” আদালত পশুকল্যাণ ও জনসুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৩ নভেম্বর।