মার্চ মাসে এই ব্লাড মুন দেখার সুযোগ পাবেন দেশবাসী।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হওয়ার নাম শুনলেই দেখার ইচ্ছে অবশ্যই মনের মধ্যে জাগে। কিভাবে সূর্য বা চাঁদের এই রূপের দেখা মিলবে তার চিন্তা আসে মনে। কিন্তু অনেক সময়ই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ দেখা যায় না। তখন অবশ্যই মনটা খারাপ হয়ে যায়। যেমন সাম্প্রতিক সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু ভারত থেকে দেখা যায়নি। যাতে কিছুটা হলেও মন খারাপ হয়েছিল মহাকাশপ্রেমীদের। কিন্তু সূর্যগ্রহনের দেখা না মিললেও এবার বছরের শুরুতেই হতে চলেছে চন্দ্রগ্রহণ। যা স্বচক্ষে দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন না ভারতবাসী বলে জানাচ্ছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। কবে, কখন হবে এই চন্দ্রগ্রহণ? কোথা থেকে কিভাবে দেখা মিলবে ?
সূর্যগ্রহণের পর এবার পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সাম্প্রতিক সূর্যগ্রহণ হলেও তা ভারত থেকে দেখা যায়নি। তবে মার্চেই রয়েছে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। সেই চন্দ্রগ্রহণ দেখা থেকে এ দেশের মানুষ আর বঞ্চিত হচ্ছেন না। কম সময়ের জন্য হলেও ওই চন্দ্রগ্রহণ প্রত্যক্ষ করতে পারবেন এ দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলের মানুষজন। এমনকি কলকাতাবাসীও বলে জানা গেছে। এখন প্রশ্ন এই চন্দ্রগ্রহণ কি? চন্দ্রগ্রহণ কখন হয়? আমরা কমবেশি সবাই জানি চাঁদের নিজস্ব কোনও আলো নেই। তার উপর সূর্যের আলো পড়ে তারপর চাঁদ আলোকিত হয়। এবং তার পরেই তাকে দেখা যায়। তাহলে চন্দ্রগ্রহণ কখন হয়? যখন পৃথিবী চাঁদ এবং সূর্যের মাঝে চলে আসে। আর তার ফলে সূর্যের আলো আর চাঁদে পড়ে না। বদলে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের উপরে। তখনই হয় চন্দ্রগ্রহণ। এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের রং হয় লাল। সে কারণে তাকে ‘রক্ত চাঁদ’ (ব্লাড মুন)-ও বলা হয়ে থাকে। মার্চমাসে এই ব্লাড মুন দেখার সুযোগ পাবেন দেশবাসী।
সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের মধ্যে কিছুটা তফাৎ আছে যেমন সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা যায় না, তবে চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে সে রকম কোনও সমস্যা নেই। সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখলে চোখের উপর প্রেসার পড়ে কিন্তু রাতে আকাশে খালি চোখেই উপভোগ করা যায় চন্দ্রগ্রহণ। আর এই চন্দ্রগ্রহণ চলে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে। যা দেখতে বেশ সুন্দর।
এখন প্রশ্ন কেন পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদের রং লাল হয়? পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি কালো কিন্তু হয় না। বদলে লাল হয়ে ওঠে। এর পিছনেও একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। যা হল- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যখন সূর্যের আলো গ্রহণ করে অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের মধ্যে দিয়ে যখন সূর্যের রশ্মি প্রতিসরিত হয়, তখন সূর্যরশ্মির লাল অংশ কম পরিমাণে প্রতিসরিত হয় এবং তা চাঁদের উপরে গিয়ে পড়ে। অন্য দিকে, সূর্যরশ্মির নীল অংশটি চার দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। তাই চাঁদকে গ্রহণের সময়ে গাঢ় কালচে লাল দেখা যায়। সেই গাঢ. কালচে লাল রঙ দেখার সুযোগ পাবেন দেশবাসী।
তবে সম্প্রতি যে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল তা ভারতবাসী দেখার সুযোগ হয়নি। তার কারণ ভারতের বেশির ভাগ জায়গা থেকে দেখা যায়নি। তবে সূর্যগ্রহনের পর এবার মার্চে হতে চলেছে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।ভারতে কোথায় কোথায় কতটা দেখা যাবে এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ? পশ্চিমবঙ্গেরই বা কোথায় কোথায় দেখা যাবে? ৩ রা মার্চ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলবে গ্রহণ। অর্থাৎ বেশ দীর্ঘসময় ধরে চলবে এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের নাটকীয় পর্যায়। এই পর্যায় চলবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড ধরে। সেই সময় আকাশে খালি চোখে তাকালেই দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। তবে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে তা দেখা যাবে না বলেই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, ৩ মার্চ পৃথিবীর যে যে দিকে রাত থাকবে, সেখান থেকে দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। ভারত থেকেও দেখা যাবে। তবে কম সময়ের জন্য দেখা যাবে এই চন্দ্রগ্রহণ।আমেরিকার পশ্চিমের স্টেটগুলিতে সেই গ্রহণ দেখা যাবে ৩ মার্চ ভোর ৪টে ৪ মিনিট থেকে ৫টা ২ মিনিট পর্যন্ত (আমেরিকার সময়)।
ভারতে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ৩ মার্চ বিকেল ৪টে ৫৮ মিনিট থেকে (ভারতীয় সময়)। দেশে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে। খণ্ডগ্রাস দেখা যাবে রাত ৭টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত।এই পূর্ণগ্রাস যখন চলবে, তখন ভারতের অনেক জায়গাতেই সন্ধ্যা নামবে না। সে ক্ষেত্রে ওই সব জায়গা থেকে পূর্ণগ্রাস না-ও দেখা যেতে পারে। ৩রা মার্চ কলকাতায় সূর্যাস্ত হবে ৫টা ৩৪ মিনিট নাগাদ। তার পরেই হবে চন্দ্রোদয়। ফলে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বাংলা থেকে দেখা যাবে না। কিছুটা হলেও খণ্ডগ্রাস দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে দিল্লি এবং নয়ডায় ওই দিন চন্দ্রোদয় হবে ৬টা ২৬ মিনিটে। তার অনেক আগে থেকেই চাঁদে গ্রহণ লেগে যাবে বলে মত বৈজ্ঞানিকদের । তাই সেখানকার মানুষজন খুব বেশি সময় গ্রহণ দেখতে পারবেন না। তবে একেবারে বঞ্চিতও হবেন না সেখানকার মানুষ। কিন্তু আবহাওয়া যদি দোষর হয়, আকাশ মেঘলা থাকে তাহলে গ্রহণ দেখার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। অর্থাৎ গ্রহণ ঠিক যে সময়ে শুরু হবে পৃথিবীর সেই অংশে যদি রাতের কালো অন্ধকার থাকে অর্থাৎ রাত্রি থাকে তখন সঠিকভাবে দেখা যেতে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। কিন্তু দিনের আলো থাকলে পূর্ণ গ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে আস্তে পারে।