ভারতের প্রতিটি কণায় রয়েছেন রাম : প্রধানমন্ত্রী

“যুগের পর যুগ স্বপ্ন সত্যি করার প্রতীক হল এই ধ্বজা। অযোধ্যার রামমন্দিরে ধ্বজা উত্তোলন অনুষ্ঠানে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক:  “যুগের পর যুগ স্বপ্ন সত্যি করার প্রতীক হল এই ধ্বজা।“ অযোধ্যার রামমন্দিরে ধ্বজা উত্তোলন অনুষ্ঠানে এমনই ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

তিনি বলেন, “ আজ ভারতের সাংস্কৃতিক চেতনার সাক্ষী রয়েছে অযোধ্যা। আজ গোটা দেশ, গোটা বিশ্ব রামময় হয়ে গিয়েছে। আজ রামভক্তদের মনে অসীম আনন্দ। যুগ যুগ ধরে যে ক্ষত তাদের মনে ছিল, তা নিরাময় হয়েছে। যুগ যুগ ধরে করা সংকল্পের সিদ্ধি  হচ্ছে। আজ সেই যজ্ঞের পূর্ণাহুতি হচ্ছে, যেখানে ৫০০ বছর ধরে আগুন চলছে। আজ ভগবান শ্রীরামের গর্ভগৃহের অসীম শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ধর্মধ্বজা ইতিহাসের সুজাগরণের রংকেই তুলে ধরছে। এই ধ্বজার গেরুয়া রং, সূর্যবংশের উত্তরাধিকার এবং রামরাজ্যের গৌরবের প্রতীক। এই পতাকা একটি সংকল্প। এই সংকল্প অর্জনের ভাষা বলে। এটি শতাব্দীর সংগ্রামের প্রতীক। একটি শতাব্দী প্রাচীন স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এটি রামের আদর্শের প্রতীক।   এই ধ্বজা সাধু-সন্তদের অধ্যাত্মিক অনুশীলন এবং সমাজের অংশগ্রহণের একটি কাহিনী। এই পতাকা ভগবান শ্রীরামের আদর্শকে তুলে ধরবে। সত্যমেব জয়তের ঘোষণা করবে। এই পতাকা থেকে যে অনুপ্রেরণা মেলে তা হল, জীবন দেওয়া যেতে পারে কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা যাবে না।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ” ভারতের প্রতিটি কণায় রয়েছেন রাম। এই ধর্মধ্বজা ভারতীয় সভ্যতার পুণর্জাগরণের প্রতীক। এই ধ্বজা দূর থেকেই রামলাল্লার জন্মভূমির দর্শন করাবে এবং দূর থেকেই শ্রীরামের আদর্শ এবং প্রেরণাকে যুগ যুগ ধরে মানবজাতির কাছে পৌঁছে দেবে। গোটা বিশ্বের কোটি কোটি রামভক্তকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। রামলালার পাশাপাশি সেই রামভক্তদেরকেও প্রণাম জানাচ্ছি, যাঁরা এই মন্দির নির্মাণে যোগদান দিয়েছেন।”

মঙ্গলবার অযোধ্যার রামমন্দিরের শীর্ষ ধর্মধ্বজা উত্তোলন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। মঙ্গলবার সকালে দিল্লি যেতে অযোধ্যা হয়ে মহর্ষি বাল্মিকী বিমানবন্দরে পৌঁছে যান। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে সাকেত বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছন। সেখান থেকে সড়কপথে রোড শোর মাধ্যমে সপ্তঋষির মন্দিরে পৌঁছন। সেখানে পুজো অর্চনার পর রাম মন্দিরে যান তিনি। গর্ভগৃহের পাশাপাশি মন্দিরের প্রথম তলায় নির্মিত রাম দরবারেও পুজো অর্চনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর মন্দিরের বাইরে ধর্মধ্বজা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে এই ধর্মধ্বজা উত্তোলন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত।  

  রাজনীতির পাশাপাশি আধ্যাত্মিক দিক থেকেও মোদীর এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।