ভারত বাংলাদেশকে আরও কাছাকাছি আনল পদ্মা সেতু

রুমঝুম সামন্ত, নিউজ ডেস্ক; “পদ্মা সেতু আত্মমর্যাদা ও বাঙালির সক্ষমতা প্রমাণের সেতু শুধু নয়। পুরো জাতিকে অপমান করার প্রতিশোধও…” শনিবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করে ঠিক একথাই বললেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশবাসীর স্বপ্নকে বাস্তব করে তুললো ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু। পৃথিবীতে দ্বিতীয় খরস্রোতা নদী পদ্মা। আর সেই নদীর উপরই নির্মীত এই সেতু বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের প্রযুক্তির ইতিহাসে বড় মাইলস্টোন। সেতুটি তৈরি করতে মোট ৩০ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা খরচ হয়। কাজের চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ১২ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। সেতুটি তৈরি হতে সময় লেগেছে প্রায় ৯০ মাস ২৭ দিন। ১৪ হাজার দেশি বিদেশি শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার ও পরামর্শকের মধ্যে প্রায় ১২০০ দেশি, ২৫০০ বিদেশি ইঞ্জিনিয়ার কাজ করেছেন। ৭৫০০ দেশি শ্রমিক, ২৫০০ হাজার বিদেশি শ্রমিক এবং প্রায় ৩০০ দেশি – বিদেশি পরামর্শক। অবশেষে শনিবার সব স্বপ্ন বাস্তব রূপে দেখলেন বাংলাদেশবাসী।

খরস্রোতা নদী পদ্মার উপর এই সেতু নির্মাণ অনেক কথক কাজ ছিল। ১২২ মিটার গভীর পর্যন্ত এই সেতুর পাইল বসানো হয়েছে। ভূমিকম্প রুখতে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরের সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ টি জেলার সড়ক যোগাযোগ করতে পারবে এই সেতুর মাধ্যমে। ফলে সময় এবং অর্থ দুটিই সাশ্রয় হবে। এই পদ্মা সেতু আরও কাছাকাছি আনল ভারত – বাংলাদেশকে। কলকাতা থেকে ঢাকা যেতে সড়ক পথে লাগতো ১৬ ঘণ্টা। এই পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে গেলে ছয় ঘণ্টাতেই পৌঁছানো যাবে। ২৬ জুন, রবিবার সকাল ৬ টা থেকেই এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হবে।