মমতার শহিদ দিবস পালনের স্থান বদল!

২১ জুলাই শহিদ দিবস: ভিক্টোরিয়া হাউস নয়, বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের সামনে সভার অনুমতি তৃণমূলকে, নির্দেশ হাই কোর্টের

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ২১ জুলাইয়ের বার্ষিক শহিদ দিবসের সভা নিয়ে জট কাটাল কলকাতা হাই কোর্ট। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে নয়, বিকল্প হিসেবে বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের সামনে এক পাশের রাস্তায় সভা করার অনুমতি পেল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, সভার জন্য রাস্তার একটি দিক ব্যবহার করা যাবে। তবে অন্য দিকটি যান চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। একই সঙ্গে সভায় সর্বাধিক ৩,০০০ জনের উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, গত ২৭ জুন তারা ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও প্রশাসন সেই আবেদন ঝুলিয়ে রেখেছিল। অথচ একই এলাকায় কংগ্রেস এবং তৃণমূলের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হয় তারা।

তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন দলের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি জানান, ১৯৯৩ সাল থেকে ওই ঐতিহাসিক স্থানেই শহিদ দিবস পালন করে আসছে তৃণমূল। সেই বছর যুব কংগ্রেসের ১৩ জন কর্মীর মৃত্যুর স্মৃতিতে প্রতিবছর এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তাই ঐতিহ্যের কারণে ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন এলাকাতেই সভার অনুমতি চেয়েছিল দল।

শুনানির সময় আদালত জানায়, পূর্বের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ইতিমধ্যেই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে কোনও ধরনের মিছিল বা সমাবেশ না করার নির্দেশ দিয়েছে। তাই বিকল্প জায়গা খুঁজে বের করার পরামর্শ দেয় আদালত। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রও ভিক্টোরিয়া হাউসে সভার বিরোধিতা করে জানান, ওই এলাকায় ইতিমধ্যেই অন্য দু’টি সংগঠনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে আরও একটি বড় জমায়েত হলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার সমস্যাও তৈরি হতে পারে। রাজ্যের তরফে ওয়েলিংটন স্কোয়ার এবং প্রয়োজনে বড় জমায়েতের জন্য ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

তবে তৃণমূলের আইনজীবীরা এসপ্ল্যানেড চত্বরেই বিকল্প স্থান চেয়ে শেষ পর্যন্ত বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের সামনের রাস্তার প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবেই সায় দেয় আদালত। নির্দেশে বলা হয়েছে, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত সভা করা যাবে। আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও যোগাযোগের তথ্য কলকাতা পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে, যাতে কর্মসূচি চলাকালীন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের উপর থাকে। পাশাপাশি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার নির্দেশও দিয়েছে হাই কোর্ট।