যুদ্ধ তো শান্ত হল, এবার কি সস্তা হবে জ্বালানি ?

পশ্চিম এশিয়া শান্ত হতেই LPG র প্রসঙ্গে বড় বার্তা সরকারের!

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব ভারতের এলপিজি (LPG) সরবরাহের ওপর পড়েছে। সরকার এই বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে ভারত সরকার।


​বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারি বার্তা:
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি এবং অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধি: এই পরিস্থিতির জেরেই জুন ২০২৬-এর শুরুতে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে মার্চ মাসেও সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। সরকার জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার ফলে একটি সিলিন্ডারের প্রকৃত সরবরাহ মূল্য ১,৬০০ টাকারও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখার জন্য সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে অনেকটা চাপ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।
সরবরাহ ব্যবস্থা: সরকার স্পষ্ট করেছে যে, দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি-র কোনো অভাব নেই। সমস্ত রিফাইনারি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ঘরোয়া এলপিজি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই এবং সরকার একে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ভর্তুকি বজায় রাখা: প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (PMUY) সুবিধাভোগীরা আগের মতোই ভর্তুকি পাচ্ছেন। বছরে প্রথম চারটি রিফিলের ওপর ৩০০ টাকা করে ভর্তুকি বজায় রাখা হয়েছে।
​জনগণের জন্য নির্দেশিকা:
​সরকার নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত এলপিজি সিলিন্ডার বুক না করার অনুরোধ করেছে। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি তথ্যের ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ​এলপিজি বুকিংয়ের জন্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
​অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক বা কালোবাজারি রুখতে রাজ্য সরকারগুলোকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন (Essential Commodities Act) অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
​সংক্ষেপে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা কমার লক্ষণ না দেখা পর্যন্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের এই অস্থিরতা বজায় থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভর্তুকির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করছে সরকার।