খালের পাশের ঝোপ থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বেআইনি সোনা ঘিরে খুন। তাতে নাম জড়াল বিডিওর নাম!
বিশ্বজিৎ পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা: চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর নাগাদ বাগজোলা খালের পাশের ঝোপ থেকে একটি রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। দেহটি উদ্ধার করেছিল নিউটাউন থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, দেহটি এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার।

নিউটাউনের যাত্রাগাছির নির্জন জায়গায় বাগজোলা খালের পাশের ঝোপ থেকে রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করার পর দেখা যায়, মৃত ব্যক্তির মুখে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এরপরই ময়নাতদন্তের পাশাপাশি সেই অঞ্চলের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তে নামে পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপনকে সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে আসা হয় নিউটাউনের এবি ৬৭ নম্বর বাড়িতে। এছাড়াও স্বর্ণ ব্যবসায়ী যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, সেই বাড়ির মালিক গোবিন্দ দাসকে তুলে নিয়ে আসা হয়। বেশ কিছুক্ষণ বসিয়ে রেখে বাড়ির মালিককে জেরা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। মারধর করার অভিযোগ ওঠে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণ এবং তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের নীলদা পোস্ট অফিস এলাকার দিলমাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা স্বপন কামিল্যা। সল্টলেকের দত্তাবাদে তাঁর একটি সোনার দোকান রয়েছে। জায়গাটি ভাড়া নিয়ে দোকান চালাতেন তিনি। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে আরও জানতে পারে যে, বেশ কয়েকদিন ধরে দোকানটি বন্ধ রয়েছে। গত ৭ মাস আগে দোকানটি ভাড়া নেন ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী। সোনার দোকান যার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন, সেই মালিক গোবিন্দ বাগ পুলিশকে জানিয়েছেন একজনের থেকে বেআইনি সোনা কিনেছিলেন এই স্বর্ণ ব্যবসায়ী। যার সোনা তিনি খোঁজখবর নিয়ে এই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে আসেন। এরপরই উনি স্বপনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরাও নিয়ে যান। বিডিও নীলবাতি গাড়ি করে আসেন। সেই কারণেই কেউ কিছু বলার সাহস পাননি। সিভিল ড্রেসে গাড়িতেও বেশ কয়েকজন ছিল বলে খবর। পরে জানা যায় তারা বিডিওর সাথে এসেছিলেন। এরপরই স্বর্ণব্যবসায়ীকে খুনের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের হাতে আসে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। তাতে পরিষ্কার উল্লেখ করা আছে, পিটিয়ে খুন করা হয়েছে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে।
এই স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় একজন সরকারি আধিকারিক ফাঁসলেন কী করে? সমস্ত বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বিডিও প্রশান্ত বর্মণের পরিচারক অশোক করকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ওই পরিচারক সোনার জিনিস চুরি করে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে দেয় বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। পরে ওই ব্যক্তি বিডিওর কাছে শিকার করে নেন যে তিনিই সোনার জিনিস চুরি করে সোনার দোকানে দিয়েছিলেন। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।