২০০২ সালের আগে ভোট দেওয়া সত্ত্বেও, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম নেই একই বুথের ৩৪জন ভোটারের। আতঙ্কে ভোটাররা।
শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা: সোমবারই এসাইআর ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২টি রাজ্যে একসঙ্গে এসআইআর চালু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিসগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরালা, লাক্ষাদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, আন্দামান নিকোবরে শুরু হচ্ছে এসআইআর। জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে সোমবার রাত থেকেই বাংলা-সহ ১২ রাজ্যে রাতেই ভোটার তালিকা ফ্রিজ করে দেবে কমিশন।

এসআইআরের প্রতিবাদে সরব হয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের রাজ্যে এসআইআর ঘোষণার পরই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। বসিরহাট এক নম্বর ব্লকের সংগ্রামপুর শিবহাটী গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯৮ নম্বর বুথের ৩৪ জন ভোটারের অভিযোগ, তাঁরা ২০০২ সালে আগে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আসছেন। তা সত্ত্বেও ২০০২-এর ভোটার তালিকার যে কপি নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে, তাতে তাঁদের নাম নেই। এর প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার ওই এলাকার এমনই বেশ কিছু ভোটারকে নিয়ে বসিরহাট এক নম্বর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে গিয়ে বিডিওকে ডেপুটেশন জমা দেন তাঁরা। কংগ্রেসের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সাধারণ সম্পাদক বাবু গাজী বলেন, “নির্বাচন কমিশন সঠিক তথ্য প্রকাশ করেনি। এই ৩৪ জন ভোটার ২০০২ সালের আগে একাধিক ভোটে অংশগ্রহণ করলেও তাদের নামের যে লিস্ট তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। এই লিস্ট আমরা মানছি না। তারই প্রতিবাদে আজ আমরা সরব হয়েছি এবং বিডিওকে স্মারকলিপি জমা দিচ্ছি।”
সবমিলিয়ে এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন একাধিক ঘটনা উঠে আসছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, বহু পুরনো ভোটারের নামও ২০০২-এর তালিকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যাকে অস্ত্র করে পথে নামছেন বিরোধীরা। বসিরহাটের ঘটনা তাদের মধ্যে অন্যতম।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে এনুমেরেশন ফর্ম ছাপা এবং বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ। চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমেরেশন ফর্ম দেওয়া হবে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। এই তালিকা নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। অভিযোগ শুনে তা খতিয়ে দেখার কাজ চলবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। তখনই বোঝা যাবে নাম থাকল না কাটা গেল।