রাজ্যে ১ লক্ষ কোটির রেলপ্রকল্প!

প্রত্যেক জেলা জুড়বে রেল মানচিত্রে: নবান্নে বৈঠকের পর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : নবান্নে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকের পর পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্কের জেরে বহু রেলপ্রকল্প আটকে ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে আগামী দিনে রাজ্যে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেলপ্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

শুক্রবার নবান্নে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকার রেলমন্ত্রকের সঙ্গে কোনও সমন্বয় রাখেনি। রেলবোর্ড ও রেলমন্ত্রীর একাধিক চিঠিরও জবাব দেওয়া হয়নি। ফলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছিল। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশনের উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি ৫৩৮টি রেল ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রেল সংযোগহীন বা অপেক্ষাকৃত অনুন্নত এলাকাগুলিকে। করিমপুর, তেহট্ট, জলঙ্গি, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম ও হিলির মতো অঞ্চলকে রেল মানচিত্রের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের প্রত্যেক জেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলকে রেলপথে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই এগোবে সরকার।

কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পরে এদিন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব মেট্রোপথে সফরের সিদ্ধান্ত নেন। বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ বিমানবন্দর মেট্রো স্টেশন থেকে নোয়াপাড়া পর্যন্ত সফর করেন। মেট্রোয় যাত্রীদের পাশাপাশি স্টেশনের সাফাই কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। সফরের অভিজ্ঞতা এবং পরিষেবা নিয়ে তাঁদের মতামতও জানতে চান। এর পরে নোয়াপাড়া মেট্রো স্টেশন থেকে অটোয় চেপে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যান। সেখান থেকে তিনি নবান্নতে যান। 

অন্য দিকে, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও বাংলার জন্য একাধিক নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগামী দিনে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি বুলেট ট্রেন করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রেনটি দিল্লি, লখনউ, বেনারস ও পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছবে। পরিষেবা চালু হলে মাত্র ছয় ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি যাতায়াত সম্ভব হবে বলে দাবি তাঁর।

এ ছাড়াও আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে ৬০টি নতুন ট্রেন চালুর আশ্বাস দেন রেলমন্ত্রী। কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে মেট্রো চালুর পর দীর্ঘ ৪২ বছরে যেখানে মাত্র ২৮ কিলোমিটার রুট তৈরি হয়েছিল, সেখানে গত ১২ বছরে আরও ৪৫ কিলোমিটার মেট্রোপথ নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ৯টি বন্দে ভারত, একটি বন্দে ভারত স্লিপার এবং ১৩টি অমৃত ভারত ট্রেন চলাচল করছে বলেও জানান তিনি।

রাজ্যের রেল উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রী— এখন নজর বাস্তবায়নের দিকে।