হাইপ্রেশার থেকে হজম, গুণমানের পরীক্ষায় ডাহা ফেল ১৫১টি ওষুধ

নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার হওয়া ওষুধের গুণমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হতে পারা যেন এক স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবার ফের দেশজুড়ে ডাহা ফেল ১৫১টি ওষুধ।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- হজমের ওষুধ কিংবা জ্বরের ওষুধ সবার বাড়িতেই থাকে। এই সব ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা করে চিকিৎসকের পরামর্শ লাগে না, কিন্তু সেই ওষুধই যদি জাল হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন? প্রায় ৬-৭ মাস ধরে এই সমস্ত ওষুধ গুণমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণই হতে পারছে না।

দেশজুড়ে ওষুধের গুণমান যাচাইয়ের পরীক্ষায় একসঙ্গে ফেল করল বিপুল পরিমাণ ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ইঞ্জেকশন! প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে মোট ১৫১ টি ওষুধ পাস করে উঠতে পারল না গুণমান যাচাইয়ের এই পরীক্ষায়। এর মধ্যে আবার ১০টি ওষুধের নমুনাকে জাল বলে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ।

জানা গিয়েছে এই ১৫১ টি ওষুধের মধ্যে বেশ অনেকগুলো ওষুধ মিলেছে শহর কলকাতায় যা এসেছে আবার ভিনরাজ্য থেকে। কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্যাবে ফেল করেছে মোট ২৬টি ওষুধের নমুনা। রাজ্য ড্রাগ ল্যাবে ফেল করেছে আরও ৫টি ওষুধের নমুনা। গত মাসে বাজার থেকে এই ওষুধগুলি ল্যাবে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় । তারপরই এই আশঙ্কাজনক ফল। এর মধ্যে আবার রাজ্য ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবের পরীক্ষায় ফেল করেছে দমদমের একটি ওষুধ সংস্থার তৈরি হজমের ওষুধ । রেবেপ্রাজল এবং ডমপেরিডোন নামের হজমের ট্যাবলেটের তিনটি নমুনাই ফেল করেছে। উদ্বেগের বিষয় হল এই ওষুধ অনেকেই খেয়ে থাকেন।

একদিকে যেরকম রোজকার ব্যবহৃত হওয়া ওষুধ রয়েছে তালিকায় এর পাশাপাশি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাোন্টিবায়োটিক, ক্যা নসারের ওষুধ, মূত্রনালি সংক্রমণের ওষুধ যারা ডাহা ফেল করেছে গুণমান পরীক্ষায়। প্রাথমিক তদন্তের পর ড্রাগ কন্ট্রোল সাফ জানিয়েছে, সিংহভাগ নট স্ট্যারন্ডার্ড কোয়ালিটি বা খারাপ গুণমানের ওষুধই বাংলায় এসেছে ভিনরাজ্যল থেকে। যার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর গুজরাটও। কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্যাাবরেটরিতে ক্যা নসার রোগীদের জন্যন ব্যাবহৃত হেপারিন ইঞ্জেকশন গুণমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। জানা গিয়েছে, গুজরাট থেকেই এই ইঞ্জেকশন এসেছে বাংলায়। সব মিলিয়ে ওষুধ আতঙ্ক জাঁকিয়ে বসছে সর্বত্র।