১৭.৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার সুন্দরবনে

ব্যাগ খুলতেই চক্ষু চড়ক গাছ! ১৭.৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার, চাঞ্চল্য সুন্দরবনে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন পুলিশ জেলার অন্তর্গত মন্দিরবাজার থানার ছোট মন্দির এলাকায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভোটের আগে এমন ঘটনায় রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসন—সবাই সতর্ক হয়ে উঠেছে। ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে মন্দিরবাজার থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেই মতো মন্দিরবাজার থানার পুলিশ এবং আইটিবিপি (ITBP) ব্যাটেলিয়নের যৌথ উদ্যোগে ছোট মন্দির এলাকার একটি ব্যস্ততম রাস্তায় নাকা চেকিং চলছিল। প্রতিটি গাড়ি ও সন্দেহজনক ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল, যাতে কোনও বেআইনি কার্যকলাপ রোখা যায়।
এই সময় একটি মোটরবাইকে করে তিনজন যুবক ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের গতিবিধি কিছুটা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ বাইকটিকে থামানোর নির্দেশ দেয়। বাইকটি থামতেই আচমকা এক যুবক নেমে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনায় কিছুটা হতচকিত হলেও তৎপরতার সঙ্গে বাকি দুই যুবককে আটক করে পুলিশ।
এরপর আটক যুবকদের কাছে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশি চালাতেই চমকে ওঠেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। ব্যাগের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় নগদ ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এত বড় অঙ্কের টাকা দেখে সঙ্গে সঙ্গে দুই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই যুবকের নাম অর্ঘ্য পুর্কায়েত এবং শুভদ্বীপ হালদার। তারা দুজনেই মন্দিরবাজার থানার অন্তর্গত লক্ষীকান্তপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা টাকার সঠিক উৎস বা বহনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্তোষজনক কোনও উত্তর দিতে পারেনি বলে জানা গিয়েছে। ফলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
অন্যদিকে, পালিয়ে যাওয়া তৃতীয় যুবকের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এবং সম্ভাব্য সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এই তিনজনের সঙ্গে আরও বড় কোনও চক্র জড়িত থাকতে পারে, যার তদন্তে নেমেছে তারা।
ভোটের আগে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এই টাকা কি ভোটে প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে? নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের সময় বেআইনি টাকা, মদ বা অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ রুখতে নির্বাচন কমিশন বিশেষ নজরদারি চালায়। সেই কারণে বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং, ফ্লাইং স্কোয়াড এবং স্ট্যাটিক নজরদারি দল মোতায়েন করা হয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও সেই সতর্কতার ফলেই এত বড় অঙ্কের টাকা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আয়কর দফতর এবং নির্বাচন কমিশনকেও বিষয়টি জানানো হতে পারে। পাশাপাশি আটক দুই যুবকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভোটের আগে প্রশাসনের এমন কড়া পদক্ষেপই স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের ঠিক আগে সুন্দরবনের এই টাকা উদ্ধার কাণ্ড ঘিরে বাড়ছে রহস্য। পলাতক যুবককে গ্রেফতার এবং টাকার উৎস উদ্ঘাটন হলেই পুরো ঘটনার আসল চিত্র সামনে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ ও প্রশাসন।