২০ বছরে ১৭৩ IIT পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু!

“২০০৬ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইআইটির অন্তত ১৭৩ জন পড়ুয়ার আত্মহত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দেশের নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম আইআইটি। অথচ গত দু’দশকে এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়াদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। একটি আইআইটি প্রাক্তনী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইআইটির অন্তত ১৭৩ জন পড়ুয়ার আত্মহত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশের মৃত্যু ঘটেছে গত ১০ বছরে।

গ্লোবাল আইআইটি অ্যালামনি সাপোর্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং আইআইটি কানপুরের প্রাক্তনী ধীরজ সিং এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সেই তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০১৫—এই ১০ বছরে ৫১টি আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২০। প্রায় ৮২ শতাংশ ঘটনাই আইআইটি ক্যাম্পাসের মধ্যে ঘটেছে বলে ওই বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।

পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময় মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলক ভাবে বেশি এবং সেমেস্টার বিরতিতে তা কমে যায় বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ধীরজের দাবি, শুধু পড়ুয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই ঊর্ধ্বগতি ব্যাখ্যা করা যায় না। তাঁর মতে, ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা।

সাম্প্রতিক দু’টি ঘটনা সেই আলোচনাকে ফের সামনে এনেছে। ২২ অগস্ট আইআইটি দিল্লির ৩১ বছরের এমএসসি পড়ুয়া ঋষিকেশ কুমারের মৃত্যু হয়। এর পর পড়ুয়ারা প্রতিবাদে নামেন এবং ঘটনার তদন্তে বহিরাগত সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করে প্রতিষ্ঠানটি।

অন্য দিকে, ১৯ সেপ্টেম্বর আইআইটি বম্বের ২০ বছরের বিটেক পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যু হয়। সেমেস্টারের পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ও এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল। পরে পড়ুয়ার মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রাথমিক মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চায় আইআইটি বম্বে।

ধীরজের বিশ্লেষণে আরও দাবি, পুরুষ বিটেক পড়ুয়া এবং মহিলা পিএইচডি গবেষকেরা তুলনামূলক ভাবে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁদের মিলিয়ে মোট ঘটনার প্রায় ৬০ শতাংশ। এসসি ও এসটি পড়ুয়াদের মৃত্যুহারও সাধারণ শ্রেণির পড়ুয়াদের তুলনায় বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই পরিসংখ্যান কোনও সরকারি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার নয়। আরটিআইয়ের জবাব এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে তথ্যগুলি তৈরি করা হয়েছে। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নথির সঙ্গে তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।