মোদী : ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং পণ্য ও জ্বালানির নির্বিঘ্ন পরিবহণ নিশ্চিত করাটাই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অবশেষে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের দিকে রওনা দিল দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার। শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার এই দুই জাহাজ— ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’— নিরাপদে ওই কৌশলগত সমুদ্রপথ অতিক্রম করেছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ইরানের সহযোগিতার ফলেই এই জাহাজ দুটির যাত্রা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে। পারস্য উপসাগর অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই যাত্রা পরিকল্পনা করা হয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজদুটি পার হওয়ার ঘটনাকে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখছে নয়াদিল্লি।
জানা গিয়েছে, ‘শিবালিক’ জাহাজটিতে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি গ্যাস রয়েছে। অন্য জাহাজ ‘নন্দা দেবী’-তেও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বহন করা হচ্ছে। দুটি ট্যাঙ্কারই এখন ভারতের উদ্দেশে এগিয়ে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের জেরে ওই সমুদ্রপথে শতাধিক জাহাজ আটকে পড়ে। তাদের মধ্যে ছিল অন্তত ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ। ফলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক পরিবহণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল।
এই পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিনে ইরানের সঙ্গে ঘনঘন যোগাযোগ রাখে নয়াদিল্লি। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ৫ মার্চ, ১০ মার্চ এবং ১২ মার্চ— মোট চার দফা ফোনে কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়।
শুধু বিদেশমন্ত্রীই নন, বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। সেই আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদী লেখেন, “ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং পণ্য ও জ্বালানির নির্বিঘ্ন পরিবহণ নিশ্চিত করাটাই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার।” তাঁর কথায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে আর একটি ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবহনকারী জাহাজ ‘জগ প্রকাশ’-ও যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বন্দর ও জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক। ওই জাহাজটি ওমান থেকে আফ্রিকার উদ্দেশে পেট্রল বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিক থেকে সেটি যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও তার আশপাশের সমুদ্রপথে প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয় নাবিক বিভিন্ন বাণিজ্যিক, বন্দর এবং অফশোর জাহাজে কর্মরত। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতি ভারতের জন্য শুধু জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, বহু ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
এই প্রেক্ষাপটে ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’-র নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হওয়া সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে সংঘাত অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতে ওই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল কতটা স্বাভাবিক থাকবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে।