‘‘মণিপুরের মানুষ যে যন্ত্রণা সহ্য করছেন, তা কল্পনাও করা কঠিন।’’

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ফের মণিপুর ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে হিংসার আগুনে পুড়ছে মণিপুর। সাম্প্রতিক ঘটনায় অন্তত ২০টি বাড়ি আগুনে ভস্মীভূত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে সংঘাত কমার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
রাহুলের বক্তব্য, ‘‘বছরের পর বছর ধরে মণিপুর জ্বলছে। আজ আবার ঘৃণা ও হিংসার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল ২০টি বাড়ি। রাজ্যে দুটি সরকার এবং এখন রাষ্ট্রপতি শাসন থাকা সত্ত্বেও সংঘাত আরও গভীর হচ্ছে। অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ভেঙে গিয়েছে অগণিত পরিবার। মণিপুরের মানুষ যে যন্ত্রণা সহ্য করছেন, তা কল্পনাও করা কঠিন।’’
এর পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং কেন্দ্রের নীতির সমালোচনায় সরব হন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, ধর্ম, জাতি, ভাষা, অঞ্চল এবং পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার রাজনীতির ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাহুলের দাবি, শুধু মণিপুর নয়, গোটা দেশই এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সহমর্মিতার দু’টি কথাও আশা করা ছেড়ে দিয়েছে। তাঁর মতে, মণিপুরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে হলে ঐক্যের পথেই এগোতে হবে।
এ দিকে, মণিপুরে অশান্তি ঘিরে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। গত ২৩ জুন হাজার হাজার মহিলা ব্যবসায়ী ও বাজার-সংক্রান্ত সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভে সামিল হন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযানে গ্রেফতার হওয়া গ্রাম প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবকদের অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে তাঁরা অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। একই সঙ্গে Arambai Tenggol-এর তিন সদস্যের মুক্তির দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এনআইএ (National Investigation Agency) জানায়, মণিপুরে জাতিগত হিংসার সঙ্গে যুক্ত ছ’টি পৃথক মামলায় মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এনআইএ-র দাবি, সিবিআই (Central Bureau of Investigation ), সিআরপিএফ (Central Reserve Police Force) এবং মণিপুর পুলিশের সহযোগিতায় একাধিক জেলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে এই গ্রেফতারি হয়েছে। ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, বিষ্ণুপুর, চুরাচাঁদপুর, উখরুল, চান্দেল এবং ফেরজাওল জেলায় একযোগে অভিযান চালানো হয় বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্র ও বিরোধীদের রাজনৈতিক তরজা যখন আরও তীব্র হচ্ছে, তখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে রাজ্যে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফেরানোর প্রশ্ন।