Date : 2019-09-19

ব্যর্থ নয় মিশন চন্দ্রযান-২, অরবিটারের প্রচেষ্টায় উঠে আসতে চলেছে কোন তথ্য?….

ওয়েব ডেস্ক: ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১টা বেজে ৫৫ মিনিট, সারাদেশ তথা সারাবিশ্বের নজর তখন ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেসনের দিকে। উৎকন্ঠার মুহুর্তে ইসরোর বিজ্ঞানীদের পাশে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের মুহুর্তে হঠাৎ-ই ছিন্ন হয়ে গেল সম্পর্ক। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করার মাত্র ২.১ কিমি দূরে পৃথিবীর সঙ্গে সম্পর্ক হারালো ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। প্রবল প্রচেষ্টা চলল অন্তত ৪০ মিনিট ধরে। মহাকাশ থেকে সারা দিল না ‘বিক্রম’। আর সেই ৪০ মিনিটের যোগাযোগ ছিন্ন হওয়াকেই অনেকে ভেবে নিলেন “মিশন চন্দ্রযান-২”-তে ব্যর্থ হয়েছে। সত্যি কি তাই?

আরও পড়ুন: এবার লিফটে চেপেই পৌঁছে যাবেন চাঁদে

৯৭৮ কোটি টাকার প্রোজেক্ট, ইসরোর বিজ্ঞানীদের দীর্ঘমেয়াদি নিরলস প্রচেষ্টা চন্দ্রপৃষ্ঠের এমন একটি স্থানে অবতরণের জন্য যেখানে আগে কোন দেশ অবতরণের জন্য কোন স্পেস অবজেক্ট পাঠায়নি। চাঁদের দক্ষিণ মেরু সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই। সেই পৃষ্ঠে মাটি, খনিজ পরীক্ষা এবং জলের সন্ধান করত রোভার প্রজ্ঞান। তাই কথায় কাজটা যত সহজ মনে হয়, কাজে হয়তো ততটা নয়।মাত্র ৪০ মিনিটের প্রয়াসে ব্যর্থ হয়েছে “মিশন চন্দ্রযান-২”, এমনটাই জানিয়ে দেন ইসরোর ডিরেক্টর কে. সিভান।

আরও পড়ুন: চাঁদ ছোঁয়ার আগেই ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ইসরোর

প্রধানমন্ত্রী তখন ইসরোর বিজ্ঞানীদের আশ্বাস দিয়ে বললেন, জীবনে নানা উত্থান পতন আসে, ভেঙে পড়ার কিছু নেই। শুধু মাত্র এই তথ্যই সেই মুহুর্তে ইসরোর তরফে এসে পৌঁছায়। কিন্তু এরপরের বিষয় নিয়ে হয়তো অনেকেই চোখ রাখছেন না ইসরোর দিকে। ল্যান্ডার ‘বিক্রম’-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া “মিশন চন্দ্রযান-২” মাত্র ৫ শতাংশ ব্যর্থ করতে পেরেছে। বাকি ৯৫ শতাংশ এখনও সফলতার সঙ্গে চলছে। চন্দ্রযান-২ এর যাত্রা শুরু হয়েছে কাল থেকে। চলবে অন্তত ১ বছর।

ইসরো থেকে বলা হয়েছে, চাঁদে সফট ল্যান্ডিং করার কথা ছিল ল্যান্ডার বিক্রমের। চাঁদ থেকে সে যখন মাত্র দু’কিলোমিটারের সামান্য বেশি দূরত্বে, তখন তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু ল্যান্ডার বিক্রম বা রোভার প্রজ্ঞান ছিল চন্দ্রযান-২ মিশনের মাত্র পাঁচ শতাংশ। বাকি ৯৫ শতাংশে আছে চন্দ্রযান-২ অরবিটার। তা সাফল্যের সঙ্গে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করছে। আগামী বছরের শুরুতেই অরবিটা চাঁদের ছবি পাঠাতে শুরু করবে।

প্রসঙ্গত, ল্যান্ডার বিক্রম কোন ভাবে যোগাযোগ করে উঠতে পারছে না, যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোন সমস্যা ধরা পরেনি। এই মুহর্তে ‘বিক্রম’কে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে অরবিটার। ঠিক যেন একটা চলন্ত ট্রেন থেকে অপর একটি চলন্ত ট্রেনে কোন বস্তু খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে ইসরো। বিক্রমের মধ্যে রয়েছে রোভার ‘প্রজ্ঞান’ যার আয়ু এখনও ১৪ দিন। এই ১৪ দিনের মধ্যে বিজ্ঞানীদের তরফ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা চলতে থাকবে ‘বিক্রম’র সঙ্গে যোগাযোগ করার।

চন্দ্রযান-২ মিশনে খরচ হয়েছে ১৪ কোটি ডলার। আমেরিকা যখন চাঁদে অ্যাপোলো মিশন পাঠিয়েছিল, খরচ করেছিল ১০ হাজার কোটি ডলার। অন্যান্য দেশের তুলনায় যে খরচ নগন্য। প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন বেঙ্গালুরুর স্পেস সেন্টার থেকে বেরিয়ে আসছিলেন, তখন তিনি ইসরো চেয়ারম্যানের সিভনকে জড়িয়ে ধরেন এবং এই সময়ে খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী মোদী দীর্ঘক্ষণ ইসরোর চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে ধরে তাঁকে উৎসাহিত করতে থাকেন। প্রসঙ্গত, ‘বিক্রম’র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন কেন হল, সেই তথ্য অনুসন্ধানে তৎপর ইসরোর বিজ্ঞানীরা।