Date : 2019-09-19

পদ্ম শিবিরের “বুদ্ধ” সৌজন্যে শুধুই মানবিকতার রাজনীতি?…

কলকাতা: গত শুক্রবার রাতে আচমকা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁকে দেখতে দক্ষিণ কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ছুটে যান বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা। তবে এরাজ্যের বিজেপির নেতাদের মধ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে যাওয়ার তৎপরতা একটু বেশি নজরে আসে। লকেট চট্টোপাধ্যায়, জয় বন্দ্যোপাধ্যায়, কৈলাশ বিজয়বর্গীয় সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা এদিন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে দেখতে পৌঁছে যান হাসপাতালে। বুদ্ধবাবুর শারীরিক অবস্থা এখন বেশ খারাপ। তবে গেরুয়া শিবিরের কাছে তাঁর উপস্থিতি কি এখনও ততটাই প্রাসঙ্গিক রাজ্য রাজনীতিতে? তবে গেরুয়া শিবিরের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, এই সাক্ষাৎকার নেহাতই সৌজন্যমূলক এমনটাই বলেছেন গেরুয়া শিবির।

নিন্দুকদের মতে, পঙ্কিল রাজনীতির পাশাখেলায় সৌজন্য শব্দটাই অর্থহীন বলে মনে করেন অনেকেই। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাস কিন্তু অন্য কথাই বলছে। কোন একসময় মুক-বধির, অন্তঃসত্ত্বা এক কিশোরীকে নিয়ে রাইটার্স বিল্ডিং-এর সামনে বিক্ষোভ দেখানোয় পুলিশ চুলের মুটি ধরে হেনস্থা করা হয়েছিল যাঁকে, তিনি এখন সিপিআইএম সাম্রাজ্যের “নাম ও নিশান” মিটিয়ে দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। রাজনৈতিক জগতে যে জ্যোতি বসু ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি, সেই জ্যোতি বসুর জন্মদিনেই পুষ্প স্তবক নানান উপহার দিয়ে সৌজন্য বিনিময় করতে দেখা গেছে তাঁকে। এক্ষেত্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিনিয়ত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখছেন তিনি। রাজ্য সরকারের তরফে সংস্কার করে দেওয়া হয়েছে তাঁর ফ্ল্যাট।

আরও পড়ুন : নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, চলছে অ্যান্টিবায়োটিক

মানবিকতা যে বাংলার রাজনীতি থেকে এখনও বিচ্যুত হয়নি, তা বোঝা যায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যখন বুদ্ধবাবুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একের পর এক বিজেপি নেতাদের হাসপাতালে সৌজন্য সাক্ষাৎ কি আদৌ কুশল বিনিময়ের বার্তাই দিচ্ছে, ইতিমধ্যেই সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাংলায় অনুপ্রবেশ এবং অবৈধ খারিজি মাদ্রাসা-র বাড়বাড়ন্ত নিয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা হয়েছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানির। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, পুলিশ প্রশাসনও নাকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে তালমিলিয়ে কাজ করেছে।

আরও পড়ুন : চিকিৎসকদের কাছে বায়না করে ছুটি আদায়, পাম অ্যাভিনিউ ফিরলেন বুদ্ধবাবু

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে চরমতম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রাজ্য সিপিআইএম। কোথাও কোথাও তাদের প্রার্থীদের জামানত জব্দ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। আলিমুদ্দিনের তরফ থেকেও এই ভরাডুবির কারণ হিসাবে বাংলায় প্রষ্ফুটিত পদ্মের প্রভাবকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ লোকসভা ভোটে চারকদম এগিয়ে যাওয়ায় গেরুয়া শিবিরের প্রাণে এখন শুধুই এগিয়ে চলার উচ্চাশা প্রয়োজনে বাংলার সমস্ত বিরোধীদলের সঙ্গেই সৌজন্য ও সুসম্পর্ক কায়েম করতে যে কোন পথ অবলম্বন করতে পারে তারা।