Date : 2019-09-19

‘ছিঃ ছিঃ এত্তা জঞ্জাল’! গঙ্গা বাঁচাতে শহরের বর্জ্য সাফাই করলেন “অতিথি”রা…

কলকাতা: “নমামী গঙ্গে”, “স্বচ্ছ ভারত মিশন” একাধিক প্রকল্পে ভারত সরকার বরাদ্দ করেছে কোটি কোটি টাকা। চালু করা হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প। তা স্বত্ত্বেও দূষিত হয়েই চলেছে গঙ্গা। ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে স্বচ্ছতা বজায় রাখা ক্রমশ চ্যালেঞ্জে পরিনত হচ্ছে। কথায় আছে “অতিথি দেবঃ ভবঃ”। ধরে নিন আপনার ঘরে অতিথি এসেছেন আর সেই অতিথি আপনার ঘরের নোংরা আবর্জনা পরিচ্ছন্ন করতে হাত লাগিয়েছে আপনার সঙ্গে!

আরও পড়ুন: গঙ্গার বানে ভেঙে যাওয়ার ২দিন পরেও অচল আহেরিটোলা জেটি

গৃহস্থের কাছে এর থেকে বড় লজ্জার আর কি আছে বলুন তো? হ্যাঁ , এবার দেশের অপরিচ্ছন্ন অবস্থা আর সহ্য করতে না পেরে সেই ‘অতিথি’ হাত লাগাল রাস্তাঘাট পরিচ্ছ্ন্ন করতে। যে কাজ করতে ব্যার্থ শহরের পুরসভা এমনকি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও, সেই দায়ভার এবার নিজের উপর নিয়ে নিল এই বিদেশী সংস্থা।অস্ট্রেলিয়ান ইনভারমেন্ট প্রডাক্ট এন্ড সার্ভিস ইনিসিয়েটিভ-এর সংস্থা ‘বৌদ্দি সলিউশন’-এর উদ্যোগে শহরের পরিবেশকে জঞ্জাল মুক্ত করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়।

এই উপলক্ষ্যে ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় ১০০ জন দেশী-বিদেশী ভলেন্টিয়ার একসঙ্গে হাওড়ার মল্লিকঘাট চত্বর সাফাই অভিযানে যোগদান করেন। এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা লউচি বার্ক টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের এবং ওয়াই-ইস্ট সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই সাফাই অভিযান শুরু করেন। বার্ক জানিয়েছেন, তার মুনাফার ৫০% শুধুমাত্র গঙ্গা পরিচ্ছন্নতার কাজেই তিনি নিয়োগ করতে চান। কারণ গঙ্গা হল পৃথিবীর ১০টি বৃহত্তম নদী উপত্যকার মধ্যে একটি। প্রাচীন কাল থেকে গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে বসতি। এই বৃহত্তর নদীগুলির মাধ্যমেই বিপুল পরিমান প্লাস্টিক জমা হতে শুরু করেছে সমুদ্র বক্ষে।

আরও পড়ুন: গাছ ভেঙে রাস্তায়, চলছে না গাড়ি, হাঁটু জলে বেহাল দশায় বেহালাবাসী

ফলে ধ্বংস হচ্ছে সমুদ্রের বাস্তুতন্দ্র। পরিবেশবিদদের একাংশের মত, সমুদ্র গর্ভে ব্যাপক হারে প্লাস্টিক জমা হতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রে মাছ বা অন্যান্য প্রাণীর বদলে প্লাস্টিক অন্তত ৫০ গুন বেড়ে যাবে। ভারত সরকারে “নমামী গঙ্গে” প্রকল্পকে সমর্থন করে এই পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালানো হবে, বিহার, উত্তরাখন্ড, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে।

পাশাপাশি গঙ্গাতীরবর্তী অঞ্চলে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শিক্ষামূলক প্রচারও চালানো হবে “বৌদ্দি সলিউশন”ও “ওয়াই ইস্ট”-এর পক্ষ থেকে। রবিবার এই উপলক্ষ্যে প্রায় ১০০ ভলেন্টিয়ার “ফিউচার হেপ”, “আর্থ ডে নেটওয়ার্ক”, “ভাইটাল ওয়েস্ট” সহ একাধিক পরিবেশ সচেতন সংস্থা থেকে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যুক্ত হয়। এদিন “বৌদ্দি সলিউশন”এর কর্ণধার বার্ক জানান, “এইভাবেই নদী উপত্যকা এবং নদীগুলিকে স্বচ্ছ করতে পারলে সমুদ্রকে পুনঃরায় একটি সুস্থ্য বাস্তুতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে পারব।”