Date : 2019-09-19

নিজের গহনা বেচে পড়ুয়াদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ক্লাসরুম বানালেন শিক্ষিকা….

ওয়েব ডেস্ক: ক্লাসরুমের মধ্যে পাঠ্যপুস্তকের পাঠ পড়িয়েই একজন শিক্ষকের ছাত্রের প্রতি কর্তব্য ও দ্বায়িত্ব শেষ হয় না। আবার শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন যাঁদের সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয় তাঁরাই শিক্ষক এই ধারণা সর্বৈব ভুল। প্রতিদিনের জীবনে তাঁদের প্রদর্শিত পথ মানুষকে প্রকৃত জীবন যাপনের অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচয় করা। কিন্তু শিক্ষকের দ্বায়িত্ব যেন সেখানেও শেষ হয় না। আমরা নিজেদের জীবনে এমন অনেক শিক্ষকের সঙ্গেই পরিচয় হয় যাঁদের দ্বায়িত্ব এইসব কিছুর থেকেও অনেক বেশি।

পড়ুয়াদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য নিজের গহনা বিক্রি করেন দিয়েছেন এই শিক্ষিকা। তামিলনাড়ুর ভিল্লিপুরম পঞ্চায়েত ইউনিয়ন প্রাইমারি স্কুলে নিজের জীবিকা হিসাবে শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছিলেন অন্নপূর্ণা মোহন। তৃতীয় শ্রেনীতে ইংরাজী পড়ান তিনি। সরকারি প্রাইমারি স্কুলে চূড়ান্ত অব্যবস্থা ছাপ ছিল সর্বত্র। শিক্ষিকা বা শিক্ষক যে পিতৃ-মাতৃসম তা ফের একবার প্রমাণিত হয়েছে অন্নপূর্ণা দেবীর কাজের মধ্যে দিয়ে। সন্তানসম ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার জন্য ক্লাসরুমের শ্রী ফেরাতে একাই উদ্যোগ নেন।

আরও পড়ুন : সোনাজয়ী সাতারু কিশোরীকে যৌন হেনস্থা, কড়া শাস্তি কোচের

ক্লাসে স্মার্ট বোর্ড, সুন্দর চেয়ার টেবিল এনে ভোল বদলে দেন তিনি। কেবলমাত্র তাই নয়, পড়ুয়াদের বিশেষ প্রকারের পাঠ্য বই নিয়ে আসেন তিনি। যাতে পড়ুয়ারা সরকারি স্কুলে পড়লেও পড়াশোনার মান যেন সেরাই থাকে। তিনি বলেন, ‘ক্লাসরুমে ভালো পরিবেশ যাতে বজায় রাখার চেষ্টা করি, ক্লাস শুরু প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুয়াদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করি। প্রথম প্রথম অসুবিধা হতো। ওরা বুঝতে পারত না। এখন সকলের অভ্যাস হয়ে গেছে।’

আরও পড়ুন : ভারতের প্রথম রূপান্তকামী সাংবাদিক, পরিচয় করে নিন হেইদির সঙ্গে

প্রাইমারি স্কুলের এই শিক্ষিকার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা আছে, সরকারি স্কুলে পঠন-পাঠনের সুযোগ সুবিধার অভাব। কিন্তু অন্নপূর্ণা মোহনের মতো শিক্ষিকা ফের প্রমাণ করে দিলেন শিক্ষার পরিবেশ অনেকটাই নির্ভর করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর। সন্তানের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে শিক্ষার যে পরিবেশ খুঁজে বেরান বাবা-মা, অন্নপূর্ণা দেবীর ক্লাসে আসলে সেই সবকিছুই পেয়ে যাবেন।