Date : 2019-12-16

পুত্র সন্তান রূপে শুধু কার্তিক নয়, লক্ষ্মীও আসুক কন্যা হয়ে, নতুন পথ দেখালো বর্ধমান….

বর্ধমান:- প্রতিটি নব দম্পতির প্রথম আশা হয়, তাদের একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান হোক। নারী, পুরুষ যতই সমান হোক, একবিংশ শতাব্দীতেও পুত্রলাভের জন্য যজ্ঞ, পুজার্চনা নতুন ঘটনা নয়। শহরাঞ্চলের বাইরে এখনও বাড়ি বাড়ি কার্তিক ফেলার নিয়ম চলে আসছে। নারীবাদী মঞ্চ যতই বিরোধীতা করুক, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস বাড়িতে কার্তিক আসা মানেই পুত্র সন্তান লাভ হবে। গৌরী নন্দন, দেবসেনাপতি কার্তিককে নিয়ে তাই আবেগের শেষ নেই বাঙালির। এই বিশ্বাসের উপরেই আস্থা রেখে বর্ধমানের বাসিন্দা জয় ভট্টাচার্য ও তাঁর বন্ধুরা। পূর্ব বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুরের একটি বাড়িতে নব দম্পতির জন্য রেখে আসা হল কার্তিক।

৫ শ্রমিকের কফিনবন্দি দেহ পৌঁছাল সাগরদিঘিতে, কান্নার রোল গ্রামে

দাদার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অবশ্য হাজির ছিলেন বোন লক্ষ্মী। নবদম্পতিকে আশির্বাদ করে গুরুজনরা এখনও বলেন, ‘পুত্রবতী হও’, কেউ বলে না ‘তোমার মেয়ে হোক’। এই দারনায় কুঠারাঘাত করেছেন বর্ধমানের বাসিন্দা জয় ভট্টাচার্য নামে ওই যুবক। তার বক্তব্য, সমাজে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও প্রয়োজন আছে। তাই এবার থেকে কার্তিকের সঙ্গে কন্যা সন্তান লাভের জন্য লক্ষ্মী দেবীর আরাধনা হোক। জয় ভট্টাচার্য নামে ওই যুবক ও তার দুই বন্ধু এই বছর বিবাহ করেছেন।

ঝড় থেকে বাঁচাতে এবারও বুক চিতিয়ে লড়াই করল ‘সুন্দরী’রা

প্রত্যেকের বাড়িতেই এবছর কার্তিক পুজো হয়েছে পাশাপাশি হয়েছে মা লক্ষ্মীর আরাধনা। তাদের বক্তব্য কন্যা অথবা পুত্র সন্তান যাই হোক না কেন সে যেন সুস্থ্য হয়। সমাজের কন্যা ভ্রূণ হত্যার বিরুদ্ধে বহু প্রচার হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী রয়েছে মেয়েদের শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য। এই ধারণাকে নিয়েই তিন বন্ধু তাদের বাড়িতে একই সঙ্গে কার্তিক ও লক্ষ্মীর আরাধনা করেন।