Date : 2020-08-14

‘হার না মানা কন্ঠস্বর’ শোনাবে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের প্রদর্শনী….

কলকাতা:- প্রাচীনকাল থেকেই সমাজে কয়েকটি বাঁধা ধরা সম্পর্কের মধ্যে বেঁচে থাকতে হয়েছে নারীকে। মা, স্ত্রী, কন্যা ও ভগিনী এই সম্পর্কের বাইরে নারীদের পরিচয় যেন সমাজে অচেনা। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে সামাজিক নিয়ম কানুন। পারিবারিক জীবনের বাইরেও এখন নারীর পরিচয় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। বিশ্বের দরবারে দেশের দশের নাম উজ্জ্বল করছেন স্বনামধন্যা নারী। সভ্যতার ইতিহাসের মাইল ফলকে লেখা হচ্ছে সেই সব মহীয়সী নারীদের নাম। এরপরেও নারীর শব্দের সংজ্ঞায় সমান্তরাল ভাবে অবস্থান করে মাতৃত্ব শব্দটি।

ভবিষ্যৎ সভ্যতা, সমাজ, বিজ্ঞান প্রযুক্তি সবই পালিত হচ্ছে সেই মাতৃগর্ভে। যে যোনি ছিঁড়ে এগিয়ে আসে আগামী সম্ভাবনা, হিংসার শিকার সেই শরীর! নারী-পুরুষের অধিকার নাকি সমান, এই বার্তা নিয়ে যে সমাজ এগিয়ে চলেছে সেই দেশে সেই সমাজে, একবিংশ শতাব্দীর দরজায় দাঁড়িয়েও খবরের কাগজের পৃষ্ঠায় প্রায় প্রতিদিনই ধর্ষণের মতো শব্দের ব্যবহার না করে থাকা যাচ্ছে না। হিংসা, লালসা, বিকৃত কামের শিকার হয়েও ভবিষ্যৎ-কে গর্ভে ধারণ করে। রক্ত, মাংসের স্তুপ দেহটিকেও চালাতে হয় পুরুষের ইচ্ছায়। যত্ন করে যে শরীর বাবা-মা পালন করেন, বিবাহের পর সেই শরীরের অধিকার নেয় একজন পুরুষ। এই বিচিত্র প্রাকৃতিক অধিকার জন্ম থেকেই নিয়ে এসেছেন পুরুষ।

শহরে এবার চালু হচ্ছে CNG বাস, ঘোষণা পরিবহন মন্ত্রীর

যন্ত্র তো নির্দিষ্ট একটি কাজই করে, তেমন নারী যন্ত্র যখন সন্তান উৎপাদনের কাজ ছেড়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে চায়, কি অন্যায় চাহিদা! সর্বনাস যেন ভেঙে পড়ে সমাজের মাথায়। সম্প্রতি ঘরে-বাইরে প্রতিনিয়ত চলা নারী নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এ একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হল।

কলকাতায় হেরোইন পাচার করতে গিয়ে গ্রেফতার ১

শিল্পী মল্লিকা দাস সূতার দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ের উপর গবেষণা চালিয়ে সমাজের মধ্যে থেকে এমন সব নারী চরিত্রের বক্তব্য তুলে এনেছেন যাঁরা কোন না কোন ভাবে সামাজিক হিংসার শিকার হয়েছেন। নির্যাতিতার পরিচয় নিয়ে বেঁচে আছেন তাঁরা।

তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে কতগুলি ভিডিও তৈরি করে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর মঞ্চে তুলে ধরেন শিল্পী মল্লিকা দাস সূতার। প্রদর্শনীতে দেখা যাবে নারী নির্যাতনের চিহ্ন দিয়ে নির্মিত বিভিন্ন ভাষ্কর্য। সামাজিক হিংস্রতাকে তুলে ধরেছে এই ভাষ্কর্যগুলি। গোটা প্রদর্শনীর সংকলন করেছেন সায়ন্তন মৈত্র বোকা। এই প্রদর্শনী দেখতে গেলেই শুনতে পাবেন তাঁদের কথা। নির্মম নির্যাতনের আঘাত বহন করে তাঁরা কিভাবে বেঁচে আছেন তার জ্বলন্ত উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে এই প্রদর্শনীতে। ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে প্রদর্শনী, চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ১২ টা থেকে শুরু হবে প্রদর্শনী চলবে রাত ৮ টা পর্যন্ত।