Date : 2020-09-25

‘বোস দ্য ফরগটন হিরো’ থেকে ‘গুমনামি’, রুপোলি পর্দায় এখনও ‘জীবন্ত’ নেতাজি

ওয়েব ডেস্ক: বিতর্ক, সাফল্যকে সঙ্গী করেই স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন একাধিক পরিচালক। সেইসব ছবির অধিকাংশরই কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন কোনও না কোনও দেশনায়ক। ভারতীয় চলচ্চিত্রের পর্যায়ক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রায় ছয়টি দেশাত্মবোধক ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসাবে উঠে এসেছেন নেতাজি। ঊনবিংশ শতকের শেষ থেকে ব্রিটিশ-শাসিত ভারতে স্বাধীনতা সংগ্রাম কংগ্রেসি রাজনীতিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। বিংশ শতাব্দীর তিনের দশকে রাজনীতির সেই মূলপ্রবাহ থেকে বিছিন্ন হয়ে সুভাষচন্দ্র বসু দেশবাসীর সামনে এক নতুন স্বপ্নের ইঙ্গিত দেন। অতঃপর অন্তর্ধান। ‘নেতাজি’ হয়ে ওঠার অধ্যায় ঘিরে যেমন রয়েছে শৌর্যের কাহিনী তেমনই রয়েছে ভারত স্বাধীন করার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। আপস-মীমাংসার পথ ত্যাগ করে দেশের বাইরে আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন ও সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতার লড়াই লড়তে শিখিয়ে ছিলেন নেতাজি। এখানেই শেষ নয়, আজীবন ভারতের স্বাধীনতার লক্ষ্যে নিবেদিতপ্রাণ নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য নিয়েও রয়েছে একাধিক বিতর্ক। কিন্তু প্রত্যেক পরিস্থিতিতেই তিনি মানুষের চোখে এক আইকন। তাই তাঁকে নিয়ে কাহিনীর পাশাপাশি সিনেমাও কম হয়নি। হালে শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত ‘বোস দ্য ফরগটন হিরো’ থেকে শুরু করে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘গুমনামি’ ছবি ঘিরে যেমন প্রশংসা রয়েছে তেমনই দানা বেঁধেছে একাধিক বিতর্ক। নেতাজির ১২৩ তম জন্মজয়ন্তীতে একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেই সব ছবির ঝলক…

সামাধি (১৯৫০)

বলিউডের পরিচালক রমেশ সাইগাল ১৯৫০ সালে ‘সমাধি’ ছবির নির্মাণ করেছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী শেখর লিলি ডি সুজা নামে এক বিদেশিনীর প্রেমে পড়েন। লিলি ও তাঁর বোন ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুপ্তচরের কাজ করার অপরাধে ধরা পড়ে যান। শেখর ও লিলির সম্পর্কে পূর্ণচ্ছেদ পড়ে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হন দুই বোন। সেই অবস্থা থেকে নেতাজি তাদের রক্ষা করেন এবংব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি করার শর্ত দেন। শেখর যুদ্ধের জন্য চলে যায়। এরপর লিলি আর শেখরের দেখা হয়েছিল কিনা তা ছবিটি দেখলেই জানতে পারবেন। তবে স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর নির্মিত ছবিটি মুখ্যচরিত্র নেতাজি।

সুভাষচন্দ্র (১৯৬৬)

শৈশবের কটক শহর থেকে এলগিন রোডের বাড়িতে ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে নেতাজির ছদ্মবেশে পলায়নের ঘটনার পর্যায়ক্রম নিয়ে বাংলায় ছবি ‘সুভাষচন্দ্র’ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। নেতাজির জন্মদিনে নবপ্রজন্মের কাছে এখনও একটি শিক্ষামূলক ছবি হয়ে আছে ‘সুভাষচন্দ্র’।

বোস দ্য ফরগটন হিরো(২০০৪)

বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগালের ছবি “বোস দ্য ফরগটন হিরো” তৈরি হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজির অবদানের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে। ‘আজাদ হিন্দ বাহিনী’ গঠন এবং সশস্ত্র পথে দেশকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত করার অধ্যায় সম্পর্কে ছবিতে বেশকিছু অজানা তথ্য রয়েছে। সচিন খাদেকার ছবিতে নেতাজির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

২৯ শে জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ৪৪ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা

আমি সুভাষ বলছি (২০১১)

ভিন্ন মতাদর্শের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে চাওয়া নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস অ-কংগ্রেসি রাজনৈতিক সংগঠন ফরওয়ার্ড ব্লক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতিতে সুভাষচন্দ্রের মতাদর্শকে গ্রহণ করে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করতে চাওয়া একজন মানুষ ছিলেন দেবব্রত (মিঠুন চক্রবর্তী)। সুভাষচন্দ্রের পথে তিনিও বাংলায় সংহতি আনতে চেয়েছিলেন সমস্ত বাঙালি জাতির মধ্যে। মহেশ মঞ্জেরকর পরিচালিত ছবির শেষে দেখানো হবে নেতাজির অনুগামী দেবব্রতকে নেতাজি নিজেই এসে উদ্ধার করবেন প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে। ছবিটি কাল্পনিকতার মোড়কে সামাজিক ও রাজনৈতিক দুর্নীতির বাস্তব চিত্রের সঙ্গে নেতাজির আদর্শের লড়াই।

পরবর্তী ছবির জন্য ‘হায়েস্ট পে’ ১২০ কোটি টাকা নেবেন অক্ষয়

রাগ দেশ(২০১৯)

ছবিটি নির্মান হয়েছে নেতাজির হাতে তৈরি সামরিক সংগঠন “আজাদ হিন্দ বাহিনী”র ইতিহাস নিয়ে। “রাগ দেশ” ছবিটি নির্মিত হয়েছে আজাদ হিন্দ বাহিনীর সংগ্রামের ইতিবৃত্ত নিয়ে। তিগমাংশু ঢুলিয়া পরিচালিত “রাগ দেশ” ছবিটি মানুষকে আজাদ হিন্দ বাহিনী সম্পর্কে বিশেষ কিছু তথ্য দিয়েছে।

বোস ডেড/অ্যালাইভ(২০১৭)

ছবির নাম শুনেই বলা যায় ছবিটি নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য নিয়েই তৈরি হয়েছে। নেতাজি অনুগামীরা এখনও অনেকেই বিশ্বাস করেন তিনি বেঁচে আছেন। সমালোচকরা মনে করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস তাইওয়ানে প্লেন ক্রাশে মারা যাননি। রাজ কুমার রাও অভিনীত ছবিটি সেই ঘটনাকে ঘিরেই নির্মিত হয়েছে।

গুমনামি (২০১৯)

সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত ‘গুমনামি’ ছবিতে আবার নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে অন্য কাহিনী সামনে আনা হয়েছে। অন্তর্ধান নয় নেতাজি গোপনে রেখেছেন তার পরিচয়। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনটি তথ্য সামনে এসেছে নেতাজির অন্তর্ধান সম্পর্কে। প্লেন ক্রাশ থিওরির পাশাপাশি রয়েছে রাশিয়ায় নেতাজির মৃত্যুর ঘটনা। নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের সমাধান এখনও হয়নি, তবে তাঁকে নিয়ে নাটকীয় চিত্রনাট্য রচনা করতে পিছিয়ে যায়নি পরিচালকরা।