Date : 2020-12-02

নির্মীয়মাণ ৪ ডেস্ট্রয়ারের রণসজ্জায় অর্থ মঞ্জুর…

ওয়েব ডেস্ক: ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য মুম্বইয়ের মাজাগাঁও ডকে তৈরি হচ্ছে চারটি নতুন ডেস্ট্রয়ার। সেই ডেস্ট্রয়ারগুলিকে রণসজ্জিত করতে দরকার অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র আর নজরদারি ব্যবস্থা। চারটি ডেস্ট্রয়ার আর তাদের রণসজ্জা মিলিয়ে গোটা প্রকল্পের জন্য ৩৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করল প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটি (সিসিএস)।

গত সপ্তাহে চারটি নির্মীয়মাণ ডেস্ট্রয়ারের অস্ত্রসজ্জা ও রেডার সিস্টেমের জন্য ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে সিসিএস। ৭ হাজার তিনশ টন ওজনের চারটি ডেস্ট্রয়ার যে প্রকল্পে তৈরি হচ্ছে, তার নাম ‘প্রজেক্ট ফিফটিন-বি’। নির্মীয়মাণ যুদ্ধজাহাজগুলির মধ্যে প্রথম ডেস্ট্রয়ারটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইএনএস বিশাখাপত্তনম’। প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ২০২০-২১ সালের মধ্যেই এই ডেস্ট্রয়ার তৈরি হয়ে যাবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২১-২২-এ ‘আইএনএস বিশাখাপত্তনম’ জলে নামবে।

লাইনে রয়েছে আরও দুটি। ‘আইএনএস মারমাগাও’ এবং ‘আইএনএস ইম্ফল’। চতুর্থ ডেস্ট্রয়ারটির নাম এখনও ঠিক হয়নি। চারটি ডেস্ট্রয়ারেই ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল থাকবে। থাকবে ‘বারাক’ ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ১২৭ মিলিমিটার গান, রকেট লঞ্চার। রাশিয়ার সহায়তায় ব্রহ্মস-কে আগের থেকে আরও শক্তিশালী করে তোলা হয়েছে। বারাক-এনজি ভারত-ইজরায়েল যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রেরই নবতম সংস্করণ। বারাক মানে বিদ্যুৎ। বারাক এনজি বারাক এইটেরই পরবর্তী ধাপ। ইজরায়েলি এয়ারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ রাফায়েল এবং ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) যৌথ উদ্যোগে বারাক-এনজি মিসাইল সিস্টেমকে আরও উন্নত করে তোলা হচ্ছে।

আর্মি দিবসে এই প্রথম প্যারেডে নেতৃত্ব দেবেন মহিলা ক্যাপ্টেন

২০১১ সালে যখন চারটি ডেস্ট্রয়ার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল তখন তার খরচ ধরা হয়েছিল ২৯ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। অস্ত্রশস্ত্র আর রেডার সিস্টেম ধরে সেই খরচা দাঁড়াল কমবেশি ৩৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকায়। শত্রুপক্ষ টের পাওয়ার আগেই আক্রমণের ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি স্টেলথ ডেস্ট্রয়ারে থাকবে চারটি করে গ্যাস টারবাইন। তাতে এক-একটি যুদ্ধজাহাজ ৩০ নটেরও বেশি গতিতে জল কেটে ধেয়ে যাবে। অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্রের সঙ্গে থাকবে আকাশমুখী ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ব্যবস্থা। আর থাকবে মালটি-ফাংশন সার্ভিলেন্স ও আগাম বিপদসংকেত দেওয়ার জন্য শক্তিশালী রেডার। সংক্ষেপে এই নজরদারি ব্যবস্থা বা সার্ভিলেন্স সিস্টেমকে বলা হচ্ছে এমএফ-স্টারস (মালটি-ফাংশন সার্ভিলেন্স অ্যান্ড থ্রেট অ্যালার্ট রেডারস)। এই শক্তি নিয়ে নতুন ডেস্ট্রয়ারগুলি জল-স্থল ও আকাশে একযোগে শত্রুপক্ষের মোকাবিলা করতে পারবে।

নির্মীয়মাণ ডেস্ট্রয়ারগুলিতে যে সুপারসনিক বারাক এন-জি মিসাইল সিস্টেম থাকবে, দূর থেকে শত্রুপক্ষের গতিবিধি টের পাওয়ায় তার জুড়ি মেলা ভার। আগে এই সিস্টেমের ইন্টারসেপশন রেঞ্জ ছিল ৭০ কিলোমিটার। সেই পাল্লা বাড়িয়ে ১০০ কিলোমিটার করা হয়েছে। শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন, হেলিকপ্টার, মিসাইল সহ যে কোনও অস্ত্র ছুটে এসেও কিছু করতে পারবে না। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, বারো মাস বারাক এন-জি মিসাইল সিস্টেমের ডিফেন্স শিল্ড কাজ করবে। একইসঙ্গে ব্রহ্মসের পাল্লাও ২৯০ কিলোমিটারের বেশি বাড়ানো হচ্ছে।

কাশ্মীরে দুই সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যু, ধৃত লস্কর

এই ধরনের অস্ত্রশস্ত্র আর সার্ভিলেন্স সিস্টেমে সাজিয়ে আর মাত্র দু বছরের মধ্যে যদি চারটি ডেস্ট্রয়ারকে এক-এক করে জলে নামানো যায়, তাহলে উপকূল রক্ষার ব্যাপারে ভারতের নৌবাহিনীকে আর চিন্তা করতে হবে না। এমনটাই আশা করছেন রণনীতিজ্ঞরা।