Date : 2020-06-05

অন্তরে সংগ্রামের মন্ত্র, কলমে ‘অটাম সং’, ‘নাইটিঙ্গল’র অজানা গল্প

ওয়েব ডেস্ক: যে সময় বাংলা তথা ভারতের মহিলাদের শিক্ষা ও সামাজিক অবস্থান পিছিয়ে ছিল সেই সময় অনন্য প্রতিভার অধিকারী সরোজিনী নাইডু সাহিত্যে, রাজনীতিতে রেখে গিয়েছেন বিশেষ কৃতিত্ব। তাঁর কবিতার মধুর ভাষা, ছন্দ ও শব্দ চয়নের কারণে ভারতের নাইটিঙ্গল উপাধীতে ভূষিত হন তিনি। আজকের দিনে অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৯ সালে হায়দরাবাদে জন্ম নিয়েছিলেন সরোজিনী নাইডু। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। মাত্র ১২ বছর বয়সে দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হন। ১৬ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য পারি দেন বিদেশে। লন্ডনের কিংস কলেজ এবং পরে কেমব্রিজের গিরটন কলেজে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কম বয়স থেকেই সরোজিনী নাইডু কবিতাও লিখতেন। ১৯১৪ সালে ইংল্যান্ডে তিনি প্রথম গান্ধীজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত হয়ে নিজের জীবন দেশের সেবায় উৎসর্গ করেন। সরোজিনী গান্ধীজির বহু সত্যাগ্রহে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আন্দোলনের মুখ হিসেবে তাঁকে জেলেও বন্দি করা হয়। স্বাধীনতার পরে উত্তরপ্রদেশ জেলার প্রথম মহিলা রাজ্যপাল ছিলেন তিনিই। আজ অসামান্য প্রতিভাশালী এই বিপ্লবী ও নেতা এবং কবি সরোজিনী নাইডুর জন্মজয়ন্তী।

কেরলের যুবকের বিয়ের আসরই হয়ে উঠল এনআরসি প্রতিবাদের মঞ্চ

নাইটেঙ্গেল উপাধী পাওয়ার কারণ

ভারতের নাইটেঙ্গেল উপাধী পেয়েছিলেন সরোজিনী নাইডু, তাঁর অসামান্য কাব্য প্রতিভার কারণে। সরোজিনী নাইডুর লেখা কবিতার ছন্দ, ভাষা ও শব্দচয়ন এতই মিষ্টি -মধুর ছিল যে তাঁকে ভারতীয় কোকিলা বা নাইটেঙ্গেল উপাধী দেওয়া হয়েছিল। মৃত্যু, ভালোবাসার মতো সংবেদনশীল বিষয় উঠে আসত তাঁর কবিতায়। তাঁর কবিতা ফুলের কথা রচনা করে এবং বেশিরভাগ সহজ শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয় যা গাওয়াও যায় দ্য গোল্ডেন থ্রেসোল্ড, দ্য বার্ড অফ টাইম, দ্য ব্রোকেন উইং, অটাম সং এর মতো তাঁর অনেক সাহিত্যকর্ম ব্যাপকভাবে এবং সমালোচিতভাবে প্রশংসিত হয়েছে। প্রাকৃতিক ছন্দ, সংবেদনশীল কল্পনার সৌন্দর্য এবং তার কাছ থেকে অবাধে বয়ে যাওয়া ছন্দ একটি গীতিকার গুণ দিয়েছে কবিতাগুলিকে।

#Breaking News: কসবায় বাড়িতে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন

সরোজিনী নাইডুর পিতা অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ। সরোজিনীর মা বরোদা সুন্দরী ছিলেন কবি, সেই যুগে বাংলা ভাষায় যে মহিলারা কবিতা লিখতেন তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন সরোজিনীর মা।সরোজিনী নাইডুর সঙ্গে সমাজের একেবারে মাটির স্তরের মানুষদের যোগাযোগ ছিল নিবিড়। বিপ্লবের মন্ত্র ছড়াতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াতেন তিনি, কথা বলতেন সমস্ত মানুষের সঙ্গে এবং দেশবাসীদের নিজেদের কর্তব্যের কথা বারেবারে স্মরণ করাতেন।সরোজিনী নাইডু বহুভাষাবিদ ছিলেন। নানা ক্ষেত্রেই প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বুঝে ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা অথবা গুজরাটি ভাষায় নিজের বক্তৃতা দিতেন তিনি। লন্ডনের সভায় ইংরেজিতে তাঁর বক্তৃতা শুনে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যান উপস্থিত শ্রোতামণ্ডলী।