বাংলার রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে একটা নাম ঘিরে। সেই নাম হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। কার্যত বলা যায় তাঁর রয়্যালিটি এখন লয়ালের মুখোমুখি। বর্তমানে বাংলার রাজনীতিতে এখন যেন মিলেমিশে এক হয়ে গেছে এই দুটো শব্দ। একটা অ্যাকাউন্ট একটা টাকার লেনদেন আর সেই লেনদেনের সূত্র ধরেই তদন্তে সামনে এল এমন এক নাম, যা ঘিরে এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা। অভিযোগ উঠেছে আর্থিক অনিয়মের। তদন্তকারীদের নজরে একের পর এক অ্যাকাউন্ট, লেনদেনের নথি, নগদ টাকার হিসেব। কিন্তু হঠাৎই সামনে এল প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার একটি ট্রান্সফার। যা ঘিরে বর্তমানে রাজনীতির আঙিনার পারদ তুঙ্গে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
উঠে আসছে দুটি প্রসঙ্গ। একে একে আলোচনা করা যাক। ইন্দ্রনীল সেনের ইডি তলবের পরে বিবৃতি দিয়ে সামনে আনা হয়েছে এক তথ্য। সালটা ২০২১। কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়। তারপরই ‘মাস আর্ট’ নামে সংগঠন তৈরি হয়। তারা দুর্গাপুজোর প্রচারের নামে নিজেদের ইউনেস্কোর অফিশিয়াল পার্টনার বলে দাবি করে। শুরু হয় পুজো পরিক্রমার পাস বিক্রি। চড়া দামে সেই পাস বিক্রি হয়েছিল। তবে, তা ছিল ভুয়ো। সেই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। কলকাতার দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো বা পুজো পরিক্রমার নামে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে চড়া দামে এন্ট্রি পাস বা টিকিট বিক্রি করা হত। তাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে ইডির তরফে অভিযোগ করা হয়। মাসআর্ট কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলকে ঘিরে প্রিভিউ শো আয়োজন করেছিল। সাধারণ মানুষের জন্য ওই শোগুলির টিকিট ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছিল। শুধু ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেই এক লক্ষের বেশি এমন টিকিট বিক্রি হয়েছিল । টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে নগদে তুলে নেওয়া হয়েছিল। কিছু অর্থ বিবিধ খরচ দেখিয়েও হিসেব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ইন্দ্রনীল সেনের এই তথ্যের সঙ্গে জুড়ে গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। কীভাবে? বলা হচ্ছে, ২০২২ সাল থেকে প্রথম তিন বছর পুজোর পাসের নামে বিপুল টাকা তোলা হয়েছে। ওই টাকা পরবর্তীকালে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, কমপক্ষে ৮৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক সরকারি টেন্ডার নিয়ম ভেঙে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সংস্থাকে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই সংস্থায় সে সময় ৩.৮ কোটি টাকার বেশি নগদ জমা পড়েছিল। এবং দাবি করা হচ্ছে, এই অ্যাকাউন্ট থেকেই নাকি ৩০ লক্ষ টাকা ঢুকেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে। যা ঘিরে যাবতীয় তর্ক বিতর্কের জন্ম। এই অভিযোগকে সামনে রেখে ময়দানে দিলীপ ঘোষ। ইন্দ্রনীল সেনের দাবি, এই টাকা রয়্যালিটি বাবদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কীসের জন্য এই রয়্যালিটি, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। সেই দিক পরিস্কার করতে হাল ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। ন্যায্যা রয়্যালিটি নিয়ে একতরফা অপপ্রচারের পিছনে উদ্দেশ্য কী, তা মানুষ নিশ্চিত বোঝেন।
মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাকা পেয়েছেন বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ও সুরে তৈরি গান ইন্দ্রনীলের সংস্থা বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দেয়। তা বাবদ ছোট ছোট অঙ্কের টাকা পেয়ে থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তা নগদে হয় না বলে দাবি কুণালের। বলেন, সেই টাকা টিডিএস কেটে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে। কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রয়্যালিটি বাবদ টাকা ইন্দ্রনীল সেন কোন সংস্থা থেকে দিয়েছেন, তা কীভাবে জানবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার। এখন প্রশ্ন ৩০ লক্ষকে নিয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফাঁসানোর চেষ্টা হতে পারে বলে মনে করছেন একাংশ। তবে মনে করাটা শেষ কথা নয়, তদন্ত চলছে। সেই তদন্তে কী উঠে আসে, সেটাই বড় ব্যাপার।