যুবক-যুবতীদের মাসে ৩০০০ টাকা !

“যুবক-যুবতীদের মাসে ৩০০০ টাকা”, বিজেপির প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ অভিষেকের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বিজেপির প্রতিশ্রুতি ঘিরে তীব্র আক্রমণ শানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারের সভা থেকে একের পর এক ইস্যু তুলে ধরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই তাঁর প্রশ্ন—“ফল যাই হোক, বাংলার প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে মাসে ৩০০০ টাকা দেবেন? ”

বিজেপির আর্থিক প্রতিশ্রুতিকে ‘জুমলা’ আখ্যা দিয়ে অভিষেকের দাবি, অতীতেও এমন বহু ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তিনি স্মরণ করান, নরেন্দ্র মোদী একাধিক নির্বাচনের আগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ হয়নি। “যেখানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগে তা বাস্তবায়িত করুন,” মন্তব্য তাঁর।

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কেও নিশানা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি অভিযোগ তোলেন, “বাংলায় ক্ষমতায় এলে দিল্লি ও গুজরাত থেকে রাজ্য চালানো হবে—এই মানসিকতা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।” তাঁর কথায়, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উপর ‘বহিরাগত চাপ’ সৃষ্টি করতে চাইছে। এমনকি তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্গাপুজোর মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসব বন্ধ করে দীর্ঘ সময় ধরে রামনবমী উদ্‌যাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যনীতি নিয়েও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, আয়ুষ্মান ভারতের তুলনায় রাজ্যের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শর্তহীন। “আয়ুষ্মান ভারতে বহু অনিয়ম হয়েছে, মৃত ব্যক্তির নামেও টাকা তোলা হয়েছে,” অভিযোগ তাঁর।

কৃষি, কর্মসংস্থান ও মূল্যবৃদ্ধির প্রশ্নেও কেন্দ্রকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “প্রতি বছর ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোদী। ১২ বছরে ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা। বাস্তবে কত হয়েছে?” একইসঙ্গে সারের দাম বৃদ্ধি, কৃষকদের দুরবস্থা ও আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় নীতির সমালোচনা করেন।

এ দিন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়েও সরব হন অভিষেক। তাঁর আশঙ্কা, এটি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তফসিলি জনজাতির মানুষ। পাশাপাশি আবাস যোজনার টাকা বকেয়া থাকা নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, বিজেপির প্রতিশ্রুতি, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক রাজনীতির প্রশ্নে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই বক্তব্য যে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।