২০০২ সালের ভোটার কার্ডে নাম নেই। কেন্দ্র সরকার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে, জমি নিয়ে নেবে আতঙ্কে আত্মঘাতী ক্ষিতীশ বাবু।
ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই এরকম বহু মানুষ আছেন। এসআইআরের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই আতঙ্কে ভুগছেন বহু মানুষ। তাদের নাম বাদ যাবে কিনা এই আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ছে। এই এসআইআর আতঙ্কেই বহুদিন ধরে ভুগছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা ক্ষিতীশ মজুমদার। বুধবার রাতে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় তাঁরই মেয়ের বাড়ি থেকে। গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। তাঁর পরিবারের লোকজনেরা জানিয়েছেন, এসআইআর আতঙ্কেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি বারবার বলতেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। তাহলে কি এবার তবে বাংলাদেশে যেতে হবে? এই আতঙ্কেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

প্রায় ৩০ বছর আগে ক্ষিতীশ বাবু স্বপরিবারে বাংলাদেশ থেকে এসে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। ক্ষিতীশ বাবুর নামও ছিল ভোটার তালিকায়। ৯৫ বছর বয়সী ক্ষিতীশ বাবু বহুবার ভোটও দিয়েছিলেন। তবে কেন আত্মহত্যা করলেন তিনি। এই প্রশ্নই বারবার আসছে। এসআইআর শুরু হওয়ার পর তিনি বারবার শুনেছিলেন যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে বাংলাদেশে চলে যেতে হবে। এই কথা শোনার পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।
এই বিষয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “বিজেপির ভয়, বিভাজন এবং ঘৃণার রাজনীতির করুণ পরিণতি আমরা প্রত্যক্ষ করছি। নির্বাচন কমিশন বাংলায় SIR মহড়া ঘোষণা করার ৭২ ঘন্টার মধ্যেই – বিজেপির নির্দেশে একটি মহড়া চালানো হয়েছে। এতেই একেরপর এক আত্মহত্যার ঘটনা সকলের সামনে আসছে। ২৭ অক্টোবর, খড়দহের পানিহাটিতে ৫৭ বছর বয়সী প্রদীপ কর আত্মহত্যা করেন। একটি চিরকুট রেখে যান যেখানে লেখা ছিল, “আমার মৃত্যুর জন্য NRC দায়ী।” ২৮ অক্টোবর, কোচবিহারের দিনহাটার ৬৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি SIR প্রক্রিয়ার অধীনে হয়রানির ভয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আর আজ, পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থেকে ৯৫ বছর বয়সী ক্ষিতিশ মজুমদার তার মেয়ের সাথে বীরভূমের ইলামবাজারে বসবাস করতেন। তিনি এই এসআইআর ভয়ে এবং তার পরিবারের সমস্ত জমি উচ্ছেদ হতে পারে এই ভয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।”

তিনি আরও বলেছেন, “আমরা একজনও বৈধ নাগরিককে “বহিরাগত” হিসেবে চিহ্নিত করতে দেব না। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত, আমরা জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য এবং বিজেপি ও তাদের মিত্রদের আমাদের জাতির সামাজিক কাঠামো ভেঙে ফেলার ঘৃণ্য এজেন্ডাকে পরাজিত করার জন্য লড়াই করব।”