আর অন্যের উপর ভরসা নয়। এবার ভারতের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে হবে ‘গগনযান মিশন’। যা নিয়ে চলছে জোর কদমে প্রস্তুতি। চলতি বছর মহাকাশ পাড়ি দিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন, লখনউয়ের শুভাংশু শুক্লা। মহাকাশে যাওয়ার জন্য শুভাংশুকে রাশিয়া থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল। তবে এবার ভারতেই মধ্যে প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিল ভারত।

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি:- ভারত ক্রমশ আত্মনির্ভর হয়ে উঠেছে তাঁর প্রমান মিলেছে বহু ক্ষেত্রে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে ভারত। একাধিক বড় বড় গবেষণার কাজে ভারত বিশ্বের উন্নত দেশগুলিকে টেক্কা দিচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে মহাকাশ গবেষণার কাজ। এই মহাকাশ গবেষণার কাজে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো একের পর এক কার্যত যুগান্তকারী কাজ করে চলেছে। যা ভারতকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিচ্ছে। এবার ভারতের পরিকল্পনা আর অন্য দেশে নয়। ভারতের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে হবে ‘গগনযান মিশন’। যা নিয়ে চলছে জোর কদমে প্রস্তুতি। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের আশা আগামী ২, ৩ বছরের মধ্যে ভারতের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে হবে ‘গগনযান মিশন’। যেখানে মহাকাশে যাওয়ার জন্য মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

চলতি বছর মহাকাশ পাড়ি দিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন, লখনউয়ের শুভাংশু শুক্লা। মহাকাশে যাওয়ার জন্য শুভাংশুকে রাশিয়া থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল। তবে এবার আর অন্য দেশের উপর ভরসা নয়। জানা গেছে, এবার নভশ্চরদের প্রশিক্ষণের জন্য আর বাইরের দেশে নয়, ভারতেই তৈরি করা হবে এমন পরিবেশ যেখানে তৈরি করা হবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র । আর এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে লাদাখের মরু অঞ্চল সো কার ভ্যালিকে। ইসরোর বিজ্ঞানীদের মতে, এখান থেকেই নাকি মহাকাশকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করা যায়। তাই সেখানে তৈরি হচ্ছে হিমালয়ান আউটপোস্ট ফর প্ল্যানেটারি এক্সপ্লোরেশন বা ‘হোপ’। আর এখানেই মহাশূন্যের মতো পরিবেশ বানিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা ইসরোর বিজ্ঞানীদের।

কেন লাদাখের সো কার উপত্যকায় প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হল? এর কারণ হিসেবে যেটা দেখা হচ্ছে,এই উপত্যকা আসলে নোনা এলাকা। এই উপত্যকার মতো পরিবেশ পাওয়া বিরল। দেশের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত এমন পরিবেশের মধ্যে গম্বুজাকৃতি তাঁবুর মতো প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত। এর মধ্যে অন্তত ১০ দিন কাটালে মহাকাশের পরিবেশ সম্পর্কে সম্যক ধারণা হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তবে নভশ্চররা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। তবে শুধু নভশ্চররা নন, কোনও সাধারণ মানুষের যদি মহাকাশে যাওয়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে তিনিও এখানে এসে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।