আচমকা বাড়ছে আক্রান্ত, রাজ্যে উদ্বেগজনক ডেঙ্গি পরিস্থিতি

রাজ্যে ক্রমশ বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা। সম্প্রতি স্বাস্থ্য দফতরের তরফে আক্রান্তের যে পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- গত প্রায় এক মাস ধরে লাগাতার ঝড় বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন জায়গার জমা জলেই এই মুহূর্তে ডেঙ্গির এই বাড়বাড়ন্ত বলে মনে অরা হচ্ছে। মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে এক ধাক্কায়। গত ২৪ জুন রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭৬১ তবে ঠিক তার পরের মাসেই, ১৩ অগাস্ট মোট আক্রান্ত বেড়ে হল ৪৩৯৪ জন। অর্থাৎ এই ২০ দিনে আক্রান্ত বাড়ল ১৬৩৩ জন।

এই মুহূর্তে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ যেখানে গত ২০ দিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮২ জন এবং মোট আক্রান্ত ৮৫১ জন। এর পাশাপশি স্বাস্থ্য দফতরের নজরে রয়েছে মোট ছয় জেলা যেগুলি হল মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, মালদা, হাওড়া, কলকাতা ও বাঁকুড়া। এই ছয় জেলায় আচমকাই সংক্রমণ বাড়ছে।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন এবার মূলত টাইপ ২ ডেঙ্গি। জ্বর যদি তিন দিনের বেশি থাকে এবং কিছু চেনা লক্ষণ বোঝা যায়, তা হলে কিছু পরীক্ষা অবশ্যই করিয়ে নিতে হবে। রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু রয়েছে কি না, তা জানতে সবচেয়ে কার্যকরী পরীক্ষাটি হল এলাইজা টেস্ট। পাশাপাশি দ্রুত ডেঙ্গি শনাক্তকরণের জন্য এনএস-১ টেস্টও চালু রয়েছে। মূলত ডেঙ্গির জ্বর থাকে ৩-৭ দিন। ওই সময়ে প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা থাকে, গায়ে হাত-পায়ে ব্যথা হয়, তীব্র মাথা যন্ত্রণা এবং হালকা শ্বাসকষ্টও হতে পারে।

গত ২০ দিনে আক্রান্তের নিরিখে, প্রথম স্থানে আছে মুর্শিদাবাদ ৩৮২, দ্বিতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগণা ২৮৯, তৃতীয় স্থানে হুগলী ১৩১, চতুর্থ মালদা- মূল আক্রান্তের তথ্য এখনও নেই, পঞ্চম হাওড়া – মূল আক্রান্তের তথ্য এখনও নেই ষষ্ঠ কলকাতা ১২৯।

দিন দুয়েক আগেই কলকাতায় এক ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হল। মৃত যুবক বছর ৩৫-এর গাবতলা লেনের বাসিন্দা। ক্যালকাটা স্কুল অফ ট্রপিক্যালে মৃত্যু হয়েছে অরিজিৎ দাস নামে ওই যুবকের। উপসর্গ নিয়ে গতকালই ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গির উল্লেখও রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। তার আগেই বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরও এক জনের। মৃত্যু হয় সানি পার্কের বাসিন্দা বৃদ্ধ স্বরূপ মুখোপাধ্যায়ের। গত ৬ অগাস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে তার পর ৯ অগাস্ট মৃত্যু হয় তাঁর। ডেঙ্গি শক সিনড্রোমে মৃত্যু বলে উল্লেখ ডেথ সার্টিফিকেটে। মৃতের একাধিক কো-মর্বিডিটি ছিল, খবর হাসপাতাল সূত্রে।