ভাদ্র মাস শুভ না অশুভ এই নিয়ে বিতর্ক আছে। আগামীদিনেও থাকবে। কিন্তু, ভাদ্র মাসে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তিথি। যা পালন করা অত্যন্ত শুভ। শুধু তাই নয়, এই তিথিগুলি পালন করলে তার ফলও মেলে হাতে নাতে। চলুন দেখে নেওয়া যাক…।

প্রবীর মুখার্জী, নিজস্ব প্রতিনিধি : ভাদ্র মাসেই সাধরণতঃ রাধারাণীর জন্মমাস। হ্যাঁ। শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে পালিত হয় রাধাষ্টমী। এই মাসেই রয়েছে গণেশ চতুর্থী। মহারাষ্ট্রে এই পুজোর উৎসবের রূপ ধারণ করে। যদিও এখন গোটা দেশ জুড়েই পালিত হয় এই উৎসব। গণপতি বাপ্পা মোরিয়ার নামে জয়ধ্বনি গোটা বাংলাজুড়েই এখন শোনা যায়। তাছাড়া এই মাস মানেই শারদোৎসবের সূচনা পর্ব। মাঠে ঘাটে কাশফুল। ভাদ্র সংক্রান্তীতে এপার বাংলার ঘরে ঘরে পালিত হয় মনসা পুজো। মানেই ওই দিন অরন্ধন। আগের দিন সূর্যাস্তের পর রান্না করা খাবার মা মনসাকে দেওয়া হয় পরদিন সকালে। সেইদিন উনুন জ্বলে ঘরে। বরং উনুনে নতুন করে মাটি লেপে উনুনে মনসা গাছের ডাল ও কাশফুল রেখে। আগের সন্ধ্যায় তৈরি রান্না করা খাবার নিবেদন করা হয় মনসা ঠাকুরকে। সঙ্গে আলপনা তো আছেই। গ্রামবাংলায় এখনও মহাসমারোহে পালিত হয় অতিপ্রাচীন এই উৎসব। কলকারখানায় এই দেবশিল্পীর আরাধনা করা হয়। বিশ্বকর্মা পুজো ধুমধাম করে পালিত হলেও আগের মতো যেহেতু আর কলকারখানা সেভাবে নেই , তাই অনেকটাই মলিন হয়ে গিয়েছে দেবশিল্পীর পুজো। তবে ঘুড়ি ওড়ানোতে কিন্তু খামতি নেই। বরং আগের চেয়ে বেড়েছে বৈ কমেনি।

আধ্যাত্মিকতার বাইরে যদি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়, তবে এই সময়ে সাধারণতঃ হালকা খাবর খাওয়াই শ্রেয়। কারণ, ইলিশের ভরা মরসুম এই সময়টা। তাই অনেকেই বাড়িতে গুরুপাক রান্না করে থাকেন। কিন্তু, বর্ষাও যেহেতু বিদ্যমান। তাই হাঁটাচলাও কম হয়। স্বভাবতই হালকা খাবারের ওপরেই জোর দেন ডাক্তারবারুরা। ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে আধুনিকভাবে পথ চলাকেই বোধ হয় শ্রেয় বলে মনে করেন এই যুগের মানুষ। তাই সবটাই করেন, সবকিছু বাঁচিয়ে।