বৃহস্পতিবার এক ভয়ংকর ঘটনার সাক্ষি থাকল বেহালাবাসী। অসুস্থ স্বামীর সামনেই নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতি হলেন ৬৯ বছরের এক বৃদ্ধা। ঘটনাটি ঘটেছে বেহালার বকুলতলায় পর্ণশ্রী থানা এলাকায়। একাকীত্ব ও অসহায়তায়ই কি কেড়ে নিল বৃদ্ধার প্রাণ! এই নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি: একাকীত্ব ও অসহায়তায়ই কি কেড়ে নিল বেহালার বকুলতলার এক বৃদ্ধার প্রাণ! বৃহস্পতিবার এক ভয়ংকর ঘটনার সাক্ষি থাকল বেহালাবাসী। অসুস্থ স্বামীর সামনেই নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতি হলেন এক বৃদ্ধা। মৃতার নাম সর্বাণী পাল। পর্ণশ্রী থানা এলাকার বকুলতলায় দোতলা বাড়িতে থাকতেন স্বামী-স্ত্রী। ছেলে কর্মসূত্রে আমেরিকায় থাকেন। পরিবারের দাবি, নানারকম অসুখে ভুগছিলেন ৬৯ বছরের এই বৃদ্ধা। বৃদ্ধার ঘর থেকে মিলেছে একটি সুইসাইড নোট। জানা গেছে একাকীত্ব, অসহায়তার কথাই লিখেছেন তিনি সুইসাইড নোটে। তাতে লেখা ছিল, ‘দেখার কেউ নেই।’ এই লেখা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সন্তান কাছে না থাকায় মানসিক অবসাদ গ্রাস করেছিল হয়তো বৃদ্ধাকে। পরবর্তীতে কীভাবে বাঁচবেন, কে দেখবে, এই নিয়ে হয়ত প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় ভুগতেন তিনি। তার জেরেই এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নেন অনুমান পুলিশের । তবে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। এই মৃত্যুর পিছনে আরও অন্য কোনও কারণ আছে কিনা তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বেহালার বকুলতলায় পর্ণশ্রী থানা এলাকার বাসিন্দা মৃণালকান্তি পাল ও সর্বাণী পাল। তাঁদের একমাত্র ছেলে কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন। তবে ফোনে বাবা-মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন তিনি বলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বক্তব্য । তবে সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই মৃণালবাবু অসুস্থ। এদিকে সন্তান সুদূর বিদেশে থাকে। আর এই একাকিত্বে মানসিক অবসাদ গ্রাস করেছিল মৃণালকান্তির স্ত্রী সর্বাণী পালকে। হয়তো তার জেরেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। জানা গেছে, বুধবার রাতে আমচকাই ঘরের দরজা বন্ধ করে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন সর্বাণী পাল। দোতালায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সেই সময় বাড়ির একতলায় ছিলেন স্বামী মৃণালবাবু। কোনওরকমে স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তড়িঘড়ি সর্বাণী পালকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানেই চিকিৎসকরা বৃদ্ধাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।কেন এমন ঘটনা ঘটল? ডিপ্রেসনের কারণেই কি গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।