কমিশনের কারচুপি! বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূলের

প্রতিটি নির্বাচনের আগে ও পরে প্রতিটি রাজ্যে Chief Electoral Officer (CEO)-এর পক্ষ থেকে Knowledge, Attitude & Practices (KAP) Survey পরিচালিত হয়। এই সার্ভের মাধ্যমে ভোটার তালিকার একটা সর্বশেষ রূপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। বিহারের ২০২৪ এর অনুরূপ সার্ভে রিপোর্ট কে হাতিয়ার করে ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক অভিযোগ তুললো তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সমাজ মাধ্যমে পোষ্ট করে সরাসরি অভিযোগ করে বলা হয়েছে বিজেপি কে সুবিধা করে দিতেই S.I.R করেছে ইলেকশন কমিশন।

সঞ্জু সুর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- ২০২৪ লোকসভা ভোটের পর বিহারের CEO(Chief Electoral Officer)-র সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। সার্ভে বলছে বিহারের ৯৮% ভোটার জানতেন নির্বাচনী তালিকার অস্তিত্ব সম্পর্কে, ৯৯% এরও বেশি নিশ্চিত ছিলেন যে তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে, ৯৮.৯% ভোটারের তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত ছিল। তৃণমূলের বক্তব্য বিহারের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের করা এই সার্ভে বা সমীক্ষার ফলাফলে স্পষ্ট যে বিহারে ভোটার তালিকা প্রায় নিখুঁত অবস্থায় ছিল। কিন্তু এরপরেও হঠাৎ করে Special Intensive Revision (SIR) ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর পরেই এক বছরের মধ্যে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ পড়তে হয়েছে, যা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিহারে যা ঘটছে তা আসলে সুপরিকল্পিত এক চক্রান্ত। তাঁদের দাবি, ১) যখন প্রায় একশো শতাংশ ভোটারের নাম ও তথ্য সঠিকভাবে তালিকাভুক্ত ছিল, তখন হঠাৎ সংশোধনীর প্রয়োজন পড়ল কেন? ২) এক বছরের ব্যবধানে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারকে বাদ দেওয়ার নেপথ্যে কি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত কাজ করছে? ৩) এটি কি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা নয়?

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, বিহারে যা ঘটছে, তা বাংলাতেও ঘটতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি ধরে নিয়ে এরাজ্যেও Special Intensive Revision (SIR) চালানোর ঘোষণা করা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে বাংলায়ও হাজার হাজার, এমনকি লক্ষ লক্ষ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে তাঁরা গোপনে NRC কার্যকর করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

তৃণমূলের বক্তব্য, ভোটার তালিকার এই ধরনের হেরফের একদিকে যেমন গণতন্ত্রকে বিপন্ন করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতে পারে এক নির্দিষ্ট দলের হাতে। তাই এ বিষয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।