এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। বাড়িতে ইডির হানা হতেই মোবাইল নর্দমায় ফেলে দেন তিনি। যদিও শনিবার সেই কথা অস্বীকার করলেন জীবনকৃষ্ণ। অন্যদিকে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জীবনকৃষ্ণ সাহাকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধি: শনিবার ফের ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হল জীবনকৃষ্ণ সাহাকে। ১২ই সেপ্টেম্বর অবধি জেল হেফাজতের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তার আগে শনিবার সকালে তাঁকে বার করা হয় সিজিও কমপ্লেক্স থেকে, নিয়ে যাওয়া হয় বিধাননগর সেবা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। সেই সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তিনি মোটেও মোবাইল ছুঁড়ে ফেলেননি।

এদিন সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বিধায়ককে নিয়ে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। তখনই সাংবাদিকরা তাঁর কাছে জানতে চান কেন তিনি ফের মোবাইল ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তরে ঘাবড়ে না গিয়ে মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিধায়ক বলেন, “কতবার বলব আমি মোবাইল ছুঁড়িনি”। এর পর তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি কি পালাচ্ছিলেন? তাঁর গায়ে কাদা কিভাবে লাগল? তখন তিনি জানান মোটেও তিনি পালাচ্ছিলেন না, পড়ে গিয়েছিলেন, তাই গায়ে কাদা লেগেছিল।

অন্যদিকে এই মুহূর্তে জীবনকৃষ্ণ সাহার টাকা ফেরতের তথ্য নিয়ে বেশ খানিকটা বিভ্রান্ত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কারণ মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা ইডির হেফাজতে থাকাকালীন দাবি করেছেন যে, তিনি কোনও চাকরিপ্রার্থীকে টাকা ফেরত দেননি। কারণ, তিনি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে টাকাই নেননি। তাহলে ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে! বরং তিনি এক ব্যক্তিকে জমি কেনার জন্য ওই পরিমাণ টাকা দিয়েছেন বলে ইডির জেরায় জানিয়েছেন।
এসএসসি দুর্নীতি মামলায় গত ২৫ অগস্ট মুর্শিদাবাদের কান্দির গ্রামের বাড়ি থেকে জীবনকৃষ্ণকে গ্রেফতার করে ইডি। এই সংক্রান্ত মামলায় এর আগে তাঁকে সিবিআই গ্রেফতার করেছিল। পরে আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন তিনি। আপাতত জীবনকৃষ্ণ ইডি হেফাজতে রয়েছেন। এসএসসি মামলার তদন্তে নেমে তৃণমূল বিধায়কের অনেক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং লেনদেনের হদিস পেয়েছে ইডি। শুধু জীবনকৃষ্ণ নন, তাঁর ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টেও লেনদেন হয়েছে। এ বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য, নথি সংগ্রহ করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।