উড়িয়ে দেওয়া হবে গোটা মুম্বাই শহর। এমনই ফোন গেল মুম্বাই ট্র্যাফিকের কাছে আর তারপরেই শহর জুড়ে জারি হাই অ্যালার্ট।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শুক্রবার মুম্বাইয়ের ট্র্যাফিক পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে এই বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ‘লস্কর-ই-জিহাদি’ নামে সংগঠনের পরিচয় দিয়ে হুমকি ফোন করা হয়। তাদের দাবি, মুম্বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়েছে ৩৪টি মানব বোমা বহনকারী গাড়ি । তাতে মোট ৪০০ কেজি আরডিএক্স রয়েছে। তার জেরে বিস্ফোরণে কাঁপবে মুম্বই। শুধু তাই নয়, ১৪ জন জঙ্গি পাকিস্তান থেকে মুম্বাইয়ে প্রবেশ করেছে বলেও ফোনে দাবি করা হয়। এই হুমকিবার্তা পাওয়ার পরই পুলিশ তৎপরতা বাড়িয়েছে। দিকে দিকে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

২৬/১১-র সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও দগদগে। মুম্বাই শহরের বিভিন্ন জায়গা এখনও সেই ভয়াবহ সময়ের চিহ্ন বহন করে। আর তার ওপর গণেশ পুজোর এই সময়টায় গোটা মুম্বাই জুড়ে বিরাজ করে এক বিশাল উৎসবের আবহ। আর সেই উৎসবের মরশমে যাতে কোন রকম কোন জঙ্গি কার্যকলাপ না ঘটে প্রতিবছরেই এই সময় মুম্বাই জুড়ে থাকে বাড়তি নিরাপত্তা। ব্যতিক্রম ছিল না এই বছরেও, এর মধ্যেই এই হুমকি ফোন চিন্তা বাড়িয়েছে অনেকটাই।

এই হুমকি ফোন পেতেই একদিকে যেমন গোটা মুম্বাই জুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করে দেওয়া হয়েছে এর পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, স্টেশন, হোটেল, ছত্রপতি শিবাজী বাস টার্মিনাস, এরকম একাধিক জায়গায় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা। মোতায়েন বাড়তি পুলিশ। নানা এলাকায় চলছে তল্লাশি, এর পাশাপাশি সন্দেহভাজন কোন ব্যক্তিকে দেখলেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে পুলিশের তরফে।

যদিও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ভুয়ো হুমকি বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ মুম্বাই পুলিশ। বম্ব স্কোয়াড এবং বিশেষ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যারা এই মুহূর্তে বাড়ির বাইরে রয়েছেন তাঁদের উদ্দেশ্যেও বলা হয়েছে কোন এলাকায় সন্দেহজনক কোন কিছু বা কোন ব্যক্তিকে দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়ার কথা।