এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায়, একগুচ্ছ নিয়ম মানতে হবে পরীক্ষার্থীদের

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ৭ সেপ্টেম্বর হতে চলেছে এসএসসি-র নবম- দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। পরীক্ষাকে ঘিরে কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তার আয়োজন করেছে এসএসসি। এই পরীক্ষায় কি কি নিয়ম মানতে হবে পরীক্ষার্থীদের তা শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিলেন এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার।

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি:- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মত হতে চলেছে এসএসসি শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। ৭সেপ্টেম্বর নবম-দশম শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় বসার জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন। আর ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় বসতে চেয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৪৬ হাজার। অর্থাৎ এবার নবম-দশম ও একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণীতে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার। গত বারের চেয়ে এ বার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত আড়াই লক্ষ বেশি।

৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হবে মোট ৬৩৬টি কেন্দ্রে। পরীক্ষা শুরু হবে দুপুর ১২ টা থেকে চলবে ১ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। তার আগে ১০ টা থেকেই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করানো শুরু হয়ে যাবে। পরীক্ষাকে ঘিরে যাতে কোনও অভিযোগ না ওঠে তাই একাধিক নিরাপত্তার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এসএসসি। চেয়ারম্যান জানিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। মহিলা পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষিত এনক্লোজার করা থাকবে যেখানে মহিলা নিরাপত্তারক্ষী তাদের দেহতল্লাসি করবেন। পরীক্ষাহলে কেউ ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না। স্মার্ট ঘড়ি বা ক্যালকুলেটরও নিয়ে যাওয়া যাবে না। কোনও অলঙ্কার জাতীয় জিনিস পরে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করা যাবে না। জলের বোতল আনলে তা স্বচ্ছ হতে হবে। হতে হবে স্বচ্ছ কলমও। তবে এসএসসি-ও পরীক্ষার্থীদের জন্য কলমের ব্যবস্থা করবে। এছাড়া অ্যাডমিট কার্ডের পাশাপাশি আনতে হবে স্বচিত্র পরিচয় পত্র। সেই সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি কোনও ফোল্ডারে নিয়ে গেলে, তা-ও স্বচ্ছ হতে হবে।

এদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে প্রশ্নপত্র পৌঁছে যাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে। প্রশ্নপত্র বিতরণ শুরু হবে সকাল ১১টা ৪৫ থেকে। তখন শুধু নিজের নামটুকুই লিখতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। এরপর দুপুর ১২ টা থেকে উত্তর লেখা শুরু করা যাবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের শেষ সময় সকাল ১১টা ৪৫। আর যে ঘরে পরীক্ষা হবে, সেখানে প্রবেশের শেষ সময় বেলা ১২টা।
ইতিমধ্যেই প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার জানিয়ে দিয়েছেন, “প্রশ্নপত্র সুরক্ষিত আছে”। তাঁর কথায়, ‘‘৩ লক্ষ ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী কাল পরীক্ষা দেবেন। প্রতিটি প্রশ্নপত্রের জন্য থাকছে আলাদা আলাদা সিকিউরিটি ফিচার। অ্যাডমিট কার্ড স্ক্যান করারও ব্যবস্থা থাকবে। সব পরীক্ষাকেন্দ্রই স্পর্শকাতর আমাদের কাছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ বেরোতে পারবেন না।’’ ২০১৬ সালের প্যানেলের কতজন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা পরীক্ষায় বসছেন এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় সকলেই আবার পরীক্ষায় বসার আবেদন করেছেন।

এদিকে নবান্ন সূত্রে খবর, শিক্ষক নিয়োগের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ শনিবার প্রতিটি জেলার জেলা শাসকদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো, পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে যাওয়া, পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা, রাস্তায় পর্যান্ত যানবাহন থাকছে কিনা সব কিছু আলোচনা হয় এই বৈঠকে।