নজর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-মোবাইল লোকেশনে, হরিদেবপুর গণধর্ষণে এখনও অধরা দুই অভিযুক্ত

শুক্রবার রাতে রিজেন্ট কলোনি এলাকায় বছর কুড়ির তরুণীর গণ ধর্ষণের শিকার হন। তারপর থেকে এখনও অবধি ফেরার দুই অভিযুক্ত। কোথায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে তারা! হদিশ পেতে হন্যে হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধি: আর জি কর, কসবার পর হরিদেবপুর। শহরের বুকে আরও এক গণধর্ষণ। ৭২ ঘন্টা পরেও অধরা দুই অভিযুক্ত। মোবাইল লোকেশন, ব্যাংক ট্র‍্যানজাকশনের দিকে নজর পুলিশের।

মঙ্গলবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল এখনও অভিযুক্ত দেবাংশু এবং চন্দনের বাইক পড়ে আছে, যে বাড়িতে দেবাংশু ভাড়া থাকত সেই বাড়িতে তালা দেওয়া। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল মাঝেমধ্যেই বাড়িতে পার্টি করত দেবাংশু। প্রায় মাঝরাত অবধি চলত সেই পার্টি, যোগ দিতেন মেয়েরাও! আবার কেউ বললেন ছেলেটিকে এলাকায় দেখলেও সেইভাবে কথা হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে দুজনের কোন রকম অনলাইন ট্র্যানজ্যাকশন হয়নি, কোন টাকা উইথড্র হয়নি। দুজনের ফোন বন্ধ। শনিবার ১২টা পর্যন্ত দুজনের ফোনই খোলা ছিল। রিজেন্ট কলোনিতে এসেই লাস্ট লোকেশন দেখাচ্ছে। কিন্তু তারপর থেকেই মোবাইল বন্ধ আর একবারের জন্যেও তা অন হয়নি।

অন্যদিকে ভিকটিমের মেডিক্যাল টেস্ট থেকে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন গণধর্ষণেরই শিকার হয়েছেন তিনি। তবুও এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে তরুণীর মেডিকো লিগ্যাল পরীক্ষা করানোর আদালতে আবেদন করবে পুলিশ। মেডিক্যাল পরীক্ষায় তরুণীর যৌনাঙ্গে যে ধরনের ঘর্ষণের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, তাতে বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক ভাবে ধর্ষণেরই ইঙ্গিত দিয়েছেন৷ মেডিকো লিগ্যাল পরীক্ষায় দেহরস, যৌনাঙ্গ থেকে রস সংগ্রহ করে ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হবে এবং ডিএনএ প্রোফাইলের জন‍্য নমুনা সংগ্রহ করা হবে৷

জানা গেছে যে তৃণমূল কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত ছিল দেবাংশু ও চন্দনের আর সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়েই কি এই মুহূর্তে ফেরার দুই অভিযুক্ত! উঠছে প্রশ্ন।